অনিয়মের স্বর্গরাজ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস; বাতিল লাইসেন্সেই পণ্য খালাস

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

অনিয়মের স্বর্গরাজ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস; বাতিল লাইসেন্সেই পণ্য খালাস

প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাস, রাজস্ব আদায়ে হিসাবের হেরফের টাকা ছাড়া ফাইল না চলার অহরহ রেকর্ডের পর এবার নানা অনিয়মের ফলে বাতিল করা লাইসেন্স নবায়ন বা নবায়ন না করেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বছরের পর বছর পণ্য খালাস করার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অপকর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজস রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। জানা যায় সি এন্ড এফ এসোসিয়েশন নেতা লিয়াকত হালদারের মালিকানাধীন মেসার্স এল এইচ ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ ফাঁকির অপরাধে গত ২০০৮ সালে বাতিল হলেও মূল ডকুমেন্টস লুকিয়ে জালিয়াতি ও রহস্যজনক কারনে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয় । এই ঘটনায় রীতিমত অবাক হয়েছেন এনবিআর ও সি এন্ড এফ এসাসিয়েশনের অন্য সদস্যরা।

পরে বিষয়টি আবারো এনবিআর এর কাছে ধরা পড়লে গত ১৯ আগষ্ট এনবিআর হতে ০৮.০১.০০০০.০৫.০০৩.১৬/১৮০ নং পত্রমূলে কাষ্টমস,মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি বিভাগের দিত্বীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষরিত চিঠিতে মেসার্স এল এইচ কর্পোরেশন বাতিল বলে ঘোষনা করেন।
পরিপত্র অনুযায়ী জানা যায় কাষ্টমস এজেন্ট লাইসেন্স বিধিমালা মোতাবেক ২০১৬ এর ৯(১)(ক) লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সকল মূলকপি জমা করেই করতে হয়।কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেসার্স এলএইচ কর্পোরেশন এর সরাসরি মূল লাইসেন্স বাতিল ঘোষনা করা হয় গত ১০/২/২০০৮ সালে, কিন্ত আবার চট্টগ্রাম কাষ্টম হাউস কর্তৃক গত ১৪/১১/২০১৮সালে আর সেই বাতিলকৃত লাইসেন্সের নাম দিয়ে আবারো ২০২৩সাল পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করেন লিয়াকত হাওলাদার। চট্রগ্রাম কাষ্টম সি এন্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদারের মেসার্স এল এইচ ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ ফাঁকির দায়ে ভোমরা ষ্টেশনে গত ১০/০২/২০০৮ ইং তারিখে বাতিল হয়।

এক্ষেত্রে মূল লাইসেন্স বাতিল হলে সাথে সাথে রেফারেন্স লাইসেন্সও বাতিল হওয়ার বিধান স্পষ্ট। তা সত্তে¡ও, বাতিলকৃত মূল লাইসেন্স কাষ্টমের লাইসেন্স সেকশনে দাখিল না করে লেয়াকত আলী হাওলাদার গত ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর যাবৎ বাতিলকৃত লাইসেন্স নবায়ন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। এই জালিয়াতি এনবিআর এর কাছে দৃশ্যমান হলে গত ১০ আগস্ট বাতিলের নির্দেশিত চিঠি চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার বরাবর প্রেরণ করেন।
বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম কাস্টমস এর লাইসেন্স শাখার প্রধান মোঃ বাশার বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঢাকা থেকে এই সংক্রান্তে একটি চিঠি এসেছে এবং এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাতিল হওয়া লাইসেন্স কিভাবে নবায়ন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ছোট চাকরী করি অনেক বাধ্যবাধকতা আছে,হায়ার অথরিটি যা বলে তাই করতে হয়।
এই বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলমের মোবাইলে ফোন করলে তিনি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু প্রভাবশালী সিএনএফ এজেন্টস এর শক্ত সিন্ডিকেটের কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ঢাকা এয়ারপোর্ট বড় অসহায়! জানা গেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে একজন এসিপি 1 নেতৃত্বে চলে এই সিন্ডিকেট বাণিজ্য. ঢাকা কাস্টমস হাউজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে ডোর টু ডোর বাণিজ্যের নামে শুল্ক ফাঁকির হরিলুট !পানগাঁও কাস্টমসে রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন ও জরিমানা বেড়েছে : অসাধু আমদানীকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টস আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

কেরানীগঞ্জে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি)। এ আইসিটি দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব ফাঁকি। আমদানিকারক ও সি অ্যান্ড এফ এর একটি চক্রের যোগ সাজশে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ফাঁকি ধরতে তৎপর পানগাঁও কাস্টমস হাউস।

পানগাঁও কাস্টমস হাউসের তদারকি আর নজরদারি বৃদ্ধির ফলে চক্রটি অনেকটাই কোণঠাসা। এর ফলও আসতে শুরু করেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা, যা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। আর ফাঁকি প্রমাণিত হওয়ায় ছয় কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পানগাঁও কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ২২৫টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করা হয়। এতে প্রায় শতাধিক আমদানিকারকের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ১৫ কোটি ২৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৯৭ টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এসব আমদানিকারককে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৩৫ টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস। বেশিরভাগ পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও কায়িক পরীক্ষায় অতিরিক্ত পণ্য থেকে রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। আর জরিমানাসহ ছয় মাসে মোট ২১ কোটি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

জানুয়ারি মাসে ৩২টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে দুই কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৩ টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। জরিমানা করা হয় ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ২৪টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে এক কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬১১ টাকা ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। জরিমানা করা হয় ৪০ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

মার্চে ২৩টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে দুই কোটি আট লাখ ৮৩ হাজার ২০ টাকা ফাঁকি উদঘাটন ও ৬৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এপ্রিলে তিনটি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে তিন লাখ ৮৮ হাজার ৪৫ টাকা ফাঁকি উদঘাটন এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মে মাসে ৬৫টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে চার কোটি ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৮৭ টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটন এবং এক কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুন মাসে (৯ জুন পর্যন্ত) ১৫টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে এক কোটি দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮২৫ টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটন এবং ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর ১০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬৫টি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে চার কোটি এক লাখ ৫৮ হাজার ৩২৬ টাকার শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন এবং দুই কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

শুল্ক ফাঁকির তালিকায় রয়েছে যেসব আমদানিকারকঃ পাওয়ার ট্রেডিং, তৈয়ব স্টিল করপোরেশন, রাফিয়া স্টিল ক্লথ (প্রা.) লিমিটেড, লুবনা ইন্টারন্যাশনাল, আল নাফি ট্রেডার্স, চৌধুরী বিয়ারিং হাউস, এল আর টেডার্স, হায়দার অটোমোবাইলস, জে আর এস এক্সক্লুসিভ প্লাস, রেইনবো বিডি ইন্টারন্যাশনাল।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু প্রভাবশালী সিএনএফ এজেন্টস এর শক্ত সিন্ডিকেটের কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ঢাকা এয়ারপোর্ট বড় অসহায়! জানা গেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে একজন এসিপি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে চলেছে এই সিন্ডিকেট বাণিজ্য. ঢাকা কাস্টমস হাউজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে ডোর টু ডোর বাণিজ্যের নামে শুল্ক ফাঁকির হরিলুট !