একাকীত্ব কি নতুন আভিজাত্য? সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে ‘লোনলিনেস ইনফ্লুয়েন্সার’দের জনপ্রিয়তা
ইন্টারনেটে বর্তমানে এক নতুন ধারার উত্থান ঘটেছে যেখানে সন্তান বা বন্ধুহীন একক জীবনযাপনকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তথাকথিত ‘লোনলিনেস ইনফ্লুয়েন্সার’দের হাত ধরে একাকীত্ব এখন অনেকের কাছে আকাঙ্ক্ষিত জীবনশৈলী।

এক নজরে
- একাকীত্বকে নেতিবাচক নয় বরং একটি ইতিবাচক জীবনশৈলী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় 'লোনলিনেস ইনফ্লুয়েন্সার'রা একা থাকার সুবিধা প্রচার করছেন।
- প্রথাগত সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এই ট্রেন্ড।
আধুনিক বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এতদিন পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে কাটানো জমকালো মুহূর্তগুলোর প্রাধান্য ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই ধারায় বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা ইনফ্লুয়েন্সার এখন তাদের সম্পূর্ণ একাকী জীবনের গল্প তুলে ধরছেন, যাকে ইন্টারনেটে ‘লোনলিনেস ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই নতুন জীবনশৈলীতে নেই কোনো সন্তান বা সঙ্গীর কোলাহল। এমনকি সামাজিক বলয় বা বন্ধুদের আড্ডার চেয়েও তারা নিজের সাথে কাটানো সময়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের ভিডিওগুলোতে একা ভ্রমণ করা, একা ডিনার করা কিংবা নির্জনে সময় কাটানোকে একটি শক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এটি মূলত একাকীত্বকে ‘একলা থাকা’র শিল্প হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, মানুষ জন্মগতভাবে সামাজিক জীব এবং এ ধরণের বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
তা সত্ত্বেও, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই 'সোলো লিভিং' বা একক জীবনযাপনের ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তারা মনে করেন, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করার চেয়ে নিজের মানসিক শান্তি এবং স্বনির্ভরতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটের এই নতুন ট্রেন্ডটি সামাজিক সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
