ইউপিআই ছাড়িয়ে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় চোখ ইন্দোনেশিয়ার: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে চলেছে। ভারতের ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) গ্রহণের পাশাপাশি দেশটির সম্পূর্ণ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার মডেল অনুসরণের পরিকল্পনা করছে জাকার্তা।

এক নজরে
- ভারতের ইউপিআই মডেলের আদলে নিজস্ব ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়বে ইন্দোনেশিয়া।
- ডিজিটাল আইডেন্টিটি এবং পাবলিক সার্ভিসের উন্নয়নেও ভারতীয় মডেল অনুসরণ করা হবে।
- প্রযুক্তি ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়া এখন ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী। ভারতের সফল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) বা ‘ইন্ডিয়া স্ট্যাক’ মডেলকে ভিত্তি করে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথে হাঁটছে দেশটি। কেবল সীমানা ছাড়িয়ে অর্থ লেনদেন নয়, বরং ই-কমার্স, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছে জাকার্তা।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে কীভাবে ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব। এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
এই সহযোগিতার পরিধি শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউপিআই লিঙ্কেজ এবং ডিজিটাল ব্লুপ্রিন্ট ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। ইন্দোনেশিয়া মনে করছে, ভারতের ডিজিটাল মডেলটি বিশেষ করে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ইউপিআই এখন বৈশ্বিক মানে উন্নীত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র যদি এই প্রযুক্তিগত নকশাকে গ্রহণ করে, তবে আসিয়ান (ASEAN) অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও সুসংহত হবে। এটি কেবল একটি লেনদেন ব্যবস্থার আদান-প্রদান নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সেতুবন্ধনের ফসল।
