তিন-ভাষা নীতি দেশের ঐক্যের জন্য বিপজ্জনক: তামিলনাড়ু কংগ্রেস সভাপতি মানিককাম ঠাকুর
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত তিন-ভাষা শিক্ষানীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন টিএনসিসি সভাপতি মানিককাম ঠাকুর। তিনি এই নীতিকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এক নজরে
- তিন-ভাষা নীতিকে ভারতের বৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন মানিককাম ঠাকুর।
- তামিলনাড়ুর প্রথাগত দুই-ভাষা নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে কংগ্রেস।
- জোরপূর্বক ভাষা চাপিয়ে দেওয়া জাতীয় সংহতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ।
ভারত সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় তিন-ভাষা সূত্র নিয়ে দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে দানা বাঁধছে। তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) নবনিযুক্ত সভাপতি বি. মানিককাম ঠাকুর এই নীতিকে দেশের জন্য 'বিপজ্জনক' বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আঞ্চলিক ভাষাগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে।
মানিককাম ঠাকুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তামিলনাড়ু দীর্ঘকাল ধরে দুই-ভাষা নীতি (তামিল ও ইংরেজি) অনুসরণ করে আসছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই রাজ্যের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক স্তরে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। নতুন করে তৃতীয় কোনো ভাষা বাধ্যতামূলক করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করবে এবং শিক্ষার মানকে ব্যাহত করবে।
কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের এই উদ্যোগের পেছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভাষাগত বৈচিত্র্যই ভারতের শক্তির মূল ভিত্তি। যদি কেন্দ্রীয় সরকার জোরপূর্বক হিন্দি বা অন্য কোনো ভাষা অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়, তবে তা জাতীয় সংহতিকে খণ্ডিত করতে পারে।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাষা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো আঞ্চলিক দলগুলোও ধারাবাহিকভাবে তিন-ভাষা নীতির বিরোধিতা করে আসছে। কংগ্রেসের এই অবস্থান রাজ্যে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধের সুরকেই আরও শক্তিশালী করল। মানিককাম ঠাকুর কেন্দ্রীয় সরকারকে এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
