প্রথাগত স্কুলের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভরসা রাখছেন আমেরিকার বিত্তবানরা

আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির ধনী অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বদলে এআই-চালিত টিউটর ও বিশেষ ওয়ার্কশপের মাধ্যমে শিক্ষিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। ফোর্জ প্রিপ ও আলফা স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 05:00
Updated
06 Jul 2026, 05:00
Reading time
2 min
প্রথাগত স্কুলের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভরসা রাখছেন আমেরিকার বিত্তবানরা
প্রযুক্তি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • সিলিকন ভ্যালির উচ্চবিত্ত অভিভাবকরা এআই টিউটরদের মাধ্যমে সন্তানদের পাঠদান করাচ্ছেন।
  • ফোর্জ প্রিপ ও আলফা স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে হাজার হাজার ডলার ফি নিচ্ছে।
  • প্রথাগত পাঠ্যক্রমের পরিবর্তে এআই-চালিত ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রজেক্টের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যদিও সাধারণ মানুষের বিশাল একটি অংশ এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ওপর পুরোপুরি আস্থা তৈরি করতে পারেনি, কিন্তু আমেরিকার উচ্চবিত্ত সমাজে এর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের সন্তানদের শিক্ষার ভার তুলে দিচ্ছেন এআই প্ল্যাটফর্মের হাতে। ফোর্জ প্রিপ (Forge Prep) এবং আলফা স্কুল (Alpha School)-এর মতো নতুন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই সেবার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত এআই টিউটর এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রজেক্ট-ভিত্তিক কর্মশালার অফার দিচ্ছে। এর বিনিময়ে তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে বছরে হাজার হাজার ডলার ফি গ্রহণ করছে। এই পদ্ধতিতে পাঠ্যবইয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শেখার ওপর, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও গতি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সাজিয়ে নেয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যার।

সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট শন জনসনের মতো অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, প্রথাগত স্কুলগুলো বর্তমান যুগের চাহিদার সাথে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের মতে, এআই টিউটররা শিশুদের পড়াশোনাকে আরও বেশি আনন্দদায়ক এবং কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে পড়াশোনা করা শিশুরা মূলত এই প্রযুক্তির বেটা টেস্টার বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।

সমালোচকরা অবশ্য এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এআই-এর ভুল তথ্য দেওয়ার প্রবণতা (Hallucination) এবং শিশুদের সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তা সত্ত্বেও, প্রিমিয়াম এডুকেশন মার্কেটে এআই-এর এই অনুপ্রবেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে শিক্ষার গুণমান সরাসরি প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে।