খামেনেইর শেষকৃত্যে জনসমুদ্র, অনুপস্থিত ছেলে মোজতবা নিয়ে নানা গুঞ্জন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর প্রয়াণে রাজধানী তেহরানে শোকের ছায়া নেমেছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও সেখানে তার প্রভাবশালী পুত্র মোজতবা খামেনেইর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক নজরে
- তেহরানে আলী খামেনেইর শেষকৃত্যে লাখো মানুষের ঢল।
- সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনেইর রহস্যজনক অনুপস্থিতি।
- বিক্ষুব্ধ জনতার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ডাক।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুতে তেহরানের রাজপথ এখন মানুষের মিছিলে উত্তাল। কয়েক দশকের শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই বর্ষীয়ান নেতার বিদায়ে দেশটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেখা গেলেও সবার নজর ছিল একটি শূন্যস্থানের দিকে।
খামেনেইর সন্তানদের মধ্যে অধিকাংশকেই এই ভিড়ের মাঝে দেখা গেলেও তার অত্যন্ত প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পুত্র মোজতবা খামেনেই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার প্রকাশ্য অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
তেহরানের সাধারণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শোকস্তব্ধ জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তারা এই দুই দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান, যা ইরানের বর্তমান উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের এই আবেগ ভবিষ্যতে তেহরানের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বেষ্টনীর মধ্যে আয়োজিত এই জানাজায় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তবে খামেনেইর পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, মোজতবার অনুপস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও ঘনীভূত করেছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ এখন পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে।
