খনি সংশোধন আইন: ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন
প্রস্তাবিত খনি সংশোধন আইন নিয়ে ভারতের খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজস্ব বণ্টনের ফেডারেল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এক নজরে
- খনি সংশোধন আইনের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির আশঙ্কা।
- খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর আর্থিক স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়ার প্রতিবাদ।
- যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বা ফেডারেলিজম রক্ষার দাবি তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের প্রস্তাবিত খনি সংশোধন আইন নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই আইনের মূল বিরোধিতার জায়গা হলো রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ। খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলো মনে করছে, নতুন এই আইন তাদের রাজস্ব আদায়ের সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করতে পারে।
বিশেষ করে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলো তাদের আয়ের একটি বড় অংশের জন্য খনিজ সম্পদের ওপর ট্যাক্স বা রয়্যালটির ওপর নির্ভর করে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কর কাঠামোতে যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, এটি ভারতের বিদ্যমান ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। রাজ্যগুলোর আশঙ্কা, খনি ইজারা এবং কর নির্ধারণের ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে গেলে তারা অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন হয়ে পড়বে। এতে স্থানীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, খনি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেই এই আইনি সংস্কার প্রয়োজন। তবে রাজস্বের অংশীদারিত্ব নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতা নিরসনে রাজ্যগুলোর সাথে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
