রাশিয়ার অ্যারোস্পেস স্থাপনা ও মিগ-৩১ ঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
রাশিয়ার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। সবশেষ অভিযানে তারা একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র এবং মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এক নজরে
- রাশিয়ার একটি কৌশলগত অ্যারোস্পেস ফেসিলিটিতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত।
- হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল মিগ-৩১ যুদ্ধবিমানের বিশেষ বিমানঘাঁটি।
- রাশিয়ার সামরিক বিমান বহরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কিয়েভের নতুন কৌশল।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী সম্প্রতি রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা চালিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যারোস্পেস স্থাপনা এবং সামরিক বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। কিয়েভের এই কৌশলগত পদক্ষেপ মূলত মস্কোর বিমান সক্ষমতা খর্ব করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রমতে, ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার এমন একটি বিমানঘাঁটি যেখানে অত্যাধুনিক মিগ-৩১ (MiG-31) ইন্টারসেপ্টর যুদ্ধবিমান রাখা ছিল। এই বিমানগুলো কিয়েভ এবং ইউক্রেনের অন্যান্য শহরের ওপর দূরপাল্লার মিসাইল হামলার জন্য পরিচিত। হামলার ফলে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার ওপর কতটা প্রভাব পড়েছে তা খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মস্কো দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে আসা অধিকাংশ ড্রোনকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে কিছু স্থাপনায় আগুনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের অংশ। কিয়েভ মনে করে, রাশিয়ার ভেতর থেকে যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বেসামরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়, সেগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান ড্রোন প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা যুদ্ধের সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র ও প্রযুক্তির সহায়তা এই ধরনের দূরপাল্লার হামলাকে আরও নির্ভুল ও ধ্বংসাত্মক করে তুলছে। সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এ ধরনের আরও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

