জীবিকার তাগিদে উত্তাল সমুদ্রের ঝুঁকি নিচ্ছেন কেরালার মৎস্যজীবীরা, সংকটে কয়েক হাজার পরিবার
প্রতিকূল আবহাওয়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেরালায় পেটের তাগিদে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে নামছেন। পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ন্যূনতম মজুরির অভাবে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে উপকূলীয় জীবন।

এক নজরে
- ক্ষতিপূরণের অভাবে নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সমুদ্রে যাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।
- সরকারি নির্দেশে নিরাপত্তা মিললেও নেই কোনো বিকল্প আয়ের উৎস।
- মৎস্যজীবী ইউনিয়নগুলো ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছে।
কেরালার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতি এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর প্রায়ই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এই নিরাপত্তার নির্দেশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চরম মানবিক সংকট। স্থানীয় মৎস্যজীবী ইউনিয়নগুলোর মতে, সমুদ্রের ঢেউয়ের চেয়েও ডাঙার দারিদ্র্য তাদের কাছে বেশি ভয়াবহ।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, সরকার যখন ‘ঘরে থাকার’ নির্দেশ দেয়, তখন তাদের বিকল্প আয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষদের জন্য একদিন মাছ ধরতে না যাওয়া মানে পরিবারের অনাহার। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ন্যূনতম মজুরি বা বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ না থাকায় তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের পরিমাণ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মৎস্য আহরণে। কিন্তু এই দুর্যোগকালীন সময়ে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় কোনো সুনির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। বিমা বা সরকারি ত্রাণ যা পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সতর্কবার্তা জারি করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মৎস্যজীবীদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দুর্যোগের দিনগুলোতে তাদের জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক ভাতা বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, জীবিকার তাগিদে এই মরণপণ লড়াই চলতেই থাকবে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয়।
