বাংলাদেশ আজকাল — Bangladesh Ajkal

ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: ঘরবাড়িতে ফিরছেন লাখো মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে শঙ্কা

ফ্রান্সের গত ৭০ বছরের ইতিহাসে ভয়াবহতম দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর জিরোন্দ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হাজার হাজার মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার বিভাগে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
02 Aug 2026, 15:16
Updated
02 Aug 2026, 15:16
Reading time
2 min
ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: ঘরবাড়িতে ফিরছেন লাখো মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে শঙ্কা
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • জিরোন্দ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া অধিকাংশ মানুষকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • ভার বিভাগে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ২,৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
  • এটি গত ৭০ বছরের মধ্যে ফ্রান্সের ভয়াবহতম দাবানল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে প্রলয়ঙ্কারী দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর এক স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় স্থানীয়দের একটি বড় অংশ নিজ নিজ বসতবাড়িতে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের সাজানো ঘরবাড়ি এবং বনভূমির যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

যদিও জিরোন্দ অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন শান্ত, তবে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার (Var) বিভাগের অবস্থা ভিন্ন। সেখানে পার্বত্য এলাকায় নিয়ন্ত্রণে আসা আগুন শুক্রবার পুনরায় জ্বলে ওঠায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাতারাতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাস আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ভার বিভাগের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ার কারণে অগ্নিনির্বাপক যানগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, জিরোন্দ অঞ্চলের বাসিন্দারা ফিরে এলেও তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে যেকোনো সময় সুপ্ত আগুন পুনরায় প্রজ্জ্বলিত হতে পারে।

ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের দাবানলের মাত্রা ও তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে এই গ্রীষ্মে ফ্রান্সের বিশাল বনভূমি যেভাবে পুড়ে ছারখার হয়েছে, তা পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের পুনর্বাসন এবং ভস্মীভূত বনভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।