ভারতে সক্রিয় এনজিওর সংখ্যা বিপুল হ্রাস: লাইসেন্স হারিয়েছে ৭২ শতাংশের বেশি সংগঠন
ভারতে বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে নিবন্ধিত এনজিওগুলোর বড় একটি অংশ বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। ৫২ হাজারের বেশি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে মাত্র ১৪ হাজার ৪৫৫টি বর্তমানে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাচ্ছে।

এক নজরে
- ৫২ হাজার নিবন্ধিত এনজিওর মধ্যে মাত্র ১৪,৪৫৫টি বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
- ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭২ শতাংশ সংস্থা তাদের এফসিআরএ লাইসেন্স হারিয়েছে।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার আইনি কড়াকড়ি বৃদ্ধি করেছে।
ভারত সরকারের ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) ২০১০-এর আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওগুলোর বর্তমান স্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, দেশে অদ্যাবধি নিবন্ধিত মোট এনজিওর মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ বর্তমানে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বাকি ৪২ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হয় বাতিল করা হয়েছে অথবা সময়মতো নবায়ন না করার কারণে তা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
২০১২ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ৫২,১৫৯টি সংস্থাকে এফসিআরএ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে কঠোর আইনি তদারকি এবং স্বচ্ছতার অভাবে বর্তমানে মাত্র ১৪,৪৫৫টি সংস্থা সক্রিয়ভাবে বিদেশের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারের অধিকার রাখছে। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এবং বৈদেশিক অর্থের অপব্যবহার রুখতে ভারত সরকার গত কয়েক বছর ধরে আইন কঠোর করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, অডিট রিপোর্ট বা বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া ছিল লাইসেন্স বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া অনেক সংস্থা নির্ধারিত খাতের বাইরে অর্থ ব্যয় করার অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছিল। এর ফলে গত এক দশকে হাজার হাজার এনজিও তাদের বৈদেশিক অর্থগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত সরকার এনজিও সেক্টরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যে স্বচ্ছতা পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই প্রতিফলন। যদিও অনেক ক্ষুদ্র এনজিও এই কঠোর নিয়ম পালনে হিমশিম খাচ্ছে, তবে বৃহত্তর স্বার্থে এই নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন। সক্রিয় ১৪ হাজারের বেশি এনজিও এখন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
