অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদ বৈধ করার সুযোগ: ৬০ শতাংশ করের বিনিময়ে দায়মুক্তির ঘোষণা
সরকার করদাতাদের জন্য বিদেশি সম্পদ প্রকাশের নতুন একটি স্কিম চালু করেছে। এর মাধ্যমে করদাতারা ৩০ শতাংশ কর ও সমপরিমাণ জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অঘোষিত সম্পত্তি বৈধ করার সুযোগ পাবেন।

এক নজরে
- অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদের ওপর ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।
- করের সমপরিমাণ অতিরিক্ত জরিমানাসহ কার্যকর করের হার ৬০ শতাংশ।
- এই স্কিমের মাধ্যমে আইনি ঝামেলা ছাড়াই সম্পদ বৈধ করার সুযোগ থাকছে।
সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি করদাতাদের লক্ষ্য করে একটি বিশেষ বিদেশি সম্পদ প্রকাশ প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বাইরে গচ্ছিত অপ্রকাশিত অর্থ বা সম্পদ অর্থনীতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা। যেসব নাগরিকের দেশের বাইরে সম্পদ রয়েছে কিন্তু তা কর নথিতে উল্লেখ করা হয়নি, তারা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
নতুন এই বিধিমালার অধীনে করদাতাদের তাদের ঘোষিত সম্পদের মূল্যের ওপর মোট ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। এর পাশাপাশি, একই পরিমাণ অর্থ অর্থাৎ আরও ৩০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে। ফলে কার্যকর করের হার দাঁড়াবে মোট ৬০ শতাংশ। এটি মূলত কর ফাঁকি রোধে সরকারের একটি কঠোর কিন্তু সংশোধনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদেশি ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ বা স্থাবর সম্পত্তির সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আইনি জটিলতা এড়ানোর এটি একটি বড় সুযোগ। তবে যারা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ ঘোষণা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত হবে। বিদেশি সম্পদ গোপন করার প্রবণতা কমাতে এটি একটি কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
