খামেনেইর শেষকৃত্যে উত্তাল তেহরান: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধের অঙ্গীকার
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের ভিড়। তেহরানে আয়োজিত এই প্রার্থনা সভায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার স্লোগান দেওয়া হয়।

এক নজরে
- তেহরানে আলী খামেনেইর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে হাজারো মানুষের শোক প্রকাশ।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি ও স্লোগান।
- নতুন নেতা মোজতবা খামেনেইর অনুপস্থিতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তেহরানের একটি অন্যতম প্রার্থনা হলে আয়োজিত এই শোকসভায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা চলাকালীন খামেনেই ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর অবশেষে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে খামেনেইর তিন ছেলেকে কফিনের পাশে দেখা গেলেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই জনসমক্ষে উপস্থিতি এড়িয়ে গেছেন। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। শোকসভার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত, যেখানে উপস্থিত জনতা প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকি ও প্রতিশোধের অঙ্গীকার বারবার শোনা গেছে। ইরানের সাধারণ মানুষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের আবেগপূর্ণ উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইরান সরকার এই শোকযাত্রাকে তাদের জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছে। সপ্তাহব্যাপী চলা এই শোক কর্মসূচি দেশটির বিভিন্ন শহরে পালিত হবে। খামেনেইর মৃত্যুকে ইরান তাদের বিপ্লবের ইতিহাসে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখলেও, বর্তমান নেতৃত্ব এই ঘটনাকে মার্কিন বিরোধী মনোভাবকে আরও চাঙ্গা করতে ব্যবহার করছে।
