বিস্মৃতির অন্তরালে দান্ডি মার্চের বীর সেনানী রাঘবজি: কেরালার শোরানুরে অযত্নে পড়ে আছে স্মৃতি

মহাত্মা গান্ধীর ঐতিহাসিক দান্ডি মার্চের অন্যতম সহযোগী রাঘবজির অবদান বর্তমানে অবহেলিত। কেরালার শোরানুরে এই মহান বিপ্লবীর স্মৃতিচিহ্নগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে।

আরেফিন মোস্তফাস্টাফ রিপোর্টার
Published
15 Aug 2026, 17:01
Updated
15 Aug 2026, 17:01
Reading time
2 min
বিস্মৃতির অন্তরালে দান্ডি মার্চের বীর সেনানী রাঘবজি: কেরালার শোরানুরে অযত্নে পড়ে আছে স্মৃতি
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক দান্ডি মার্চে গান্ধীর ৭৮ জন সঙ্গীর একজন ছিলেন রাঘবজি।
  • কেরালার শোরানুরে এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমানে চরম অবহেলিত।
  • ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের দান্ডি মার্চ বা লবণ সত্যাগ্রহ এক যুগান্তকারী ঘটনা। মহাত্মা গান্ধীর সেই ঐতিহাসিক পদযাত্রায় যে ৭৮ জন একনিষ্ঠ অনুসারী অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কেরালার রাঘবজি। আজীবন গান্ধীর আদর্শে উজ্জীবিত এই মানুষটি ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান সময়ে রাঘবজির উত্তরসূরি বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। কেরালার শোরানুরে তার একসময়কার কর্মস্থল এবং স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো এখন অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। স্বাধীনতার কয়েক দশক পর এই মহান বিপ্লবীর নাম ও কাজ নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় অপরিচিত হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, রাঘবজি কেবল একজন আন্দোলনকারীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন গান্ধীর গঠনমূলক কাজের একনিষ্ঠ প্রচারক। লবণ সত্যাগ্রহে যোগ দিয়ে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার যে মশাল জ্বালিয়েছিলেন, তা দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার স্মৃতিধন্য সম্পদগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।

ইতিহাসবিদরা মনে করেন, রাঘবজির মতো বিপ্লবীদের ত্যাগ ও আদর্শকে ধরে রাখা নৈতিক দায়িত্ব। শোরানুরের এই অবহেলিত স্থানটিকে একটি জাদুঘর বা স্মারক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। যথাযথ সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ইতিহাস অচিরেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরেফিন মোস্তফা
স্টাফ রিপোর্টার