বাংলাদেশ আজকাল — Bangladesh Ajkal

পিতৃহীন দুই বোনের সম্পত্তির অধিকার আদায়ের গল্প নিয়ে নাটক ‘অংশীদার’

বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে চাচা ও আত্মীয়দের বিরোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বড় বোনের প্রতিবাদী হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে।

আরেফিন মোস্তফাভেরিফায়েড রিপোর্টারস্টাফ রিপোর্টার
Published
30 Oct 2026, 17:23
Updated
30 Oct 2026, 17:23
Reading time
3 min
পিতৃহীন দুই বোনের সম্পত্তির অধিকার আদায়ের গল্প নিয়ে নাটক ‘অংশীদার’
বিনোদন · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ আজকাল

আমাদের সমাজে আজও কেবল কন্যাসন্তান থাকা পরিবারগুলোকে নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে পরিবারের কর্তার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ‘ব্রাদারি হক’-এর দাবি কিংবা নানা অজুহাতে সম্পত্তির লোভে চাচা ও আত্মীয়স্বজনের একাংশ পিতৃহীন পরিবারগুলোর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান। এমনকি তাঁদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টাও করেন। সমাজের এমনই এক নির্মম বাস্তবতা উঠে এসেছে নাটক ‘অংশীদার’-এ।

নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, বাবার মৃত্যুর পর দুই বোনকে ঘিরে শুরু হয় পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধ। চাচা ও তাঁর পরিবারের অন্যায়ের মুখে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তাদের। একপর্যায়ে সব বাধা ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বড় বোন। নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে সে। শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে তার সাহস, আত্মবিশ্বাস ও সংগ্রামের চিত্র।

নাটকটিতে পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে নারীর উত্তরাধিকার, আত্মমর্যাদা, পারিবারিক বৈষম্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস। বিশেষ করে বাবাহারা মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা এবং আপনজনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামই নাটকটির মূল উপজীব্য।

নাটকটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইকসান রনি। সংলাপ লিখেছেন ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েল।

নির্মাতার বক্তব্য

বাংলাদেশ আজকালের সাক্ষাৎকারে নাটকটির নির্মাতা ইকসান রনি বলেন, “অংশীদার” আমাদের সমাজের একটি বাস্তব চিত্র। এই নাটকের মাধ্যমে নারীর ন্যায্য অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরতে চেয়েছি। আশা করি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

নাটকটির প্রযোজক কাজী সাইফুল ইসলাম রাজীব বলেন, আমরা সবসময় বিনোদনের পাশাপাশি সমাজসচেতনতামূলক গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। “অংশীদার” তেমনই একটি উদ্যোগ। আশা করি, নাটকটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, তানিয়া বৃষ্টি, ডলি জহুর, নন্দী জুয়েল, আর সি অরণ্য, আশরাফুল আশীষ, পংকজ মজুমদার, দেলোয়ার উদ্দিন, সিদ্দিক মাস্টার, কাকন চৌধুরী, তাসমিয়াহ টিনা, নন্দীসহ আরও অনেকে।

ইতোমধ্যে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে নাটকটি। টেলিভিশনে প্রচারের পর দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন ‘কেএসআই এন্টারটেইনমেন্ট’ (KSI Entertainment)-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।

সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়কে নাটকের গল্পে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে ‘অংশীদার’ শুধু বিনোদন নয়, বরং নারীর অধিকার ও সামাজিক সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দিতে চায়।

আরেফিন মোস্তফাভেরিফায়েড রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার