মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে ইউএসএস ওয়াশিংটন: আব্রাহাম লিঙ্কনের স্থলাভিষিক্ত হবে নতুন রণতরী
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস ওয়াশিংটনকে এই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এটি বর্তমানে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে জানা গেছে।

এক নজরে
- ইউএসএস ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে।
- ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে রণতরী পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- দীর্ঘদিনের মোতায়েনে ইউএসএস লিঙ্কনের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্লান্তির খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে মার্কিন সামরিক শক্তি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন রণতরী ইউএসএস ওয়াশিংটনকে এই অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। বর্তমানে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গেছে, টানা যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনের ফলে জাহাজটির কর্মী ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই আধুনিক সরঞ্জাম সম্বলিত ওয়াশিংটনকে পাঠানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউএসএস লিঙ্কনের ভেতরকার শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অসমর্থিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর রণতরী পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত দ্রুততর করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বড় কোনো হামলা মোকাবেলায় এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। নতুন এই রণতরী যুক্ত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই পরিবর্তন কেবল রুটিন মাফিক কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ওয়াশিংটন পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইউএসএস ওয়াশিংটন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ইউএসএস লিঙ্কন তার দীর্ঘ মিশন শেষ করে নিজ বন্দরে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পাবে।
