কেরলে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি: মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের করা ‘রিভার্স রেমিট্যান্স’ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ভি. শিবনকুট্টি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে অভিবাসীদের অবদানকে খাটো করে দেখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
05 Jul 2026, 18:31
Updated
05 Jul 2026, 18:31
Reading time
2 min
কেরলে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি: মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা
রাজনীতি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • মুখ্যমন্ত্রীর ‘রিভার্স রেমিট্যান্স’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন মন্ত্রী ভি. শিবনকুট্টি।
  • শ্রমিকদের প্রধান অবদান কেবল মদের ট্যাক্সে— মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে অবমাননাকর মনে করা হচ্ছে।
  • কেরালার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অভিবাসীদের বিশাল ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

কেরালায় কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অবদান এবং তাদের আয়ের বহিঃপ্রবাহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কেরালায় উপার্জিত অর্থের একটি বিশাল অংশ 'রিভার্স রেমিট্যান্স' হিসেবে অন্যান্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে, যা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কেরালা ক্যাবিনেটের অন্যতম সদস্য ভি. শিবনকুট্টি দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানকে শুধুমাত্র আর্থিক বহিঃপ্রবাহের মানদণ্ডে বিচার করা সংকুচিত মানসিকতার পরিচয়। তিনি এই মন্তব্যের সমালোচনা করে অভিবাসী কর্মীদের অধিকার এবং রাজ্যের অবকাঠামো নির্মাণে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও একটি বিতর্কিত বিষয় ছিল অভিবাসী শ্রমিকদের ট্যাক্স প্রদান সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, কেরালার অর্থিনীতিতে অভিবাসীরা প্রধানত মদ্যপানের মাধ্যমে সংগৃহীত আবগারি শুল্কের মাধ্যমেই বেশি অবদান রাখছেন। এই বক্তব্যটি শ্রমিক সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

সমালোচকদের মতে, কেরালার নির্মাণ খাত, কৃষি এবং সেবা ক্ষেত্র প্রায় সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে সৃষ্ট সম্পদ ও উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেবল তাদের খরচ করার অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা অনভিপ্রেত।

এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ কেরালার বামপন্থী সরকারের ভেতরকার মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট মেটাতে যখন পর্যটন ও প্রবাসীদের আয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে।