উত্তরপ্রদেশ কি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে? সরব রাজ্যের প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তারা

উত্তরপ্রদেশে বিচারবহির্ভূত সহিংসতা এবং পুলিশের ক্রমবর্ধমান কঠোরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সমাজে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
01 Aug 2026, 23:15
Updated
01 Aug 2026, 23:15
Reading time
2 min
উত্তরপ্রদেশ কি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে? সরব রাজ্যের প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তারা
রাজনীতি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • পুলিশের আচরণ অমানবিক হয়ে উঠছে বলে দাবি বিভূতি নারায়ণ রাইয়ের।
  • সহিংসতাকে সমাজে স্বাভাবিকীকরণ করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন প্রাক্তন ডিজিপি সুলখান সিং।
  • আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘তাৎক্ষণিক বিচার’ সংস্কৃতির উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ।

উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের একাধিক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের দাবি, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় উত্তরপ্রদেশ ক্রমশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে, যেখানে আইনের শাসনের চেয়ে শক্তির প্রদর্শনই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা বিভূতি নারায়ণ রাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারি নীতি পুলিশ বাহিনীকে ‘অসভ্য’ বা অমানবিক করে তুলছে। তিনি মনে করেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) সুলখান সিং এক গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মদতে সহিংসতাকে স্বাভাবিকীকরণ করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন এক মানসিকতা তৈরি হচ্ছে যেখানে তারা ‘তাৎক্ষণিক বিচার’ হিসেবে সহিংসতাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে।

প্রাক্তন এই কর্মকর্তাদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে পুলিশের এই আগ্রাসী ভূমিকা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তারা মনে করেন, যদি সমাজ সহিংসতাকে ন্যায়বিচার হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে, তবে তা ভবিষ্যতে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

এই সমালোচনা উত্তরপ্রদেশ সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের এনকাউন্টার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। এবার প্রশাসনের ভেতর থেকে আসা এই প্রতিবাদ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।