অস্ট্রেলিয়ায় জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে গ্রিনস দলের তীব্র সমালোচনা
অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি ও কোয়ালিশনের মধ্যে জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রস্তাবিত সমঝোতাকে একটি ‘ধোঁয়াশা’ হিসেবে অভিহিত করেছে গ্রিনস পার্টি। দলটির মুখপাত্র সারাহ হ্যানসন-ইয়ং প্রস্তাবিত ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন।
এক নজরে
- গ্রিনস মুখপাত্র সারাহ হ্যানসন-ইয়ং জুয়ার বিজ্ঞাপনের ‘অপ্ট-আউট’ সিস্টেমকে অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন।
- লেবার ও কোয়ালিশনের সমঝোতাকে স্রেফ একটি ‘ধোঁয়াশা’ বলে আখ্যা দিয়েছে গ্রিনস পার্টি।
- অ্যাঙ্গাস টেলর ওয়ান নেশন দলের চাপে নতি স্বীকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক পক্ষ—লেবার পার্টি এবং কোয়ালিশন—জুয়ার বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে গ্রিনস দল এই পদক্ষেপকে কেবল একটি রাজনৈতিক ধোঁয়াশা বলে মনে করছে।
গ্রিনস দলের মুখপাত্র সারাহ হ্যানসন-ইয়ং সরকারের এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে ‘অপ্ট-আউট’ বা বিজ্ঞাপন বন্ধের ঐচ্ছিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এটি ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের অজ্ঞতার পরিচয় দেয়। তার মতে, ইন্টারনেটের প্রতিটি কোণ থেকে জুয়ার বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলা ব্যবহারকারীদের জন্য অসম্ভব।
হ্যানসন-ইয়ং আরও অভিযোগ করেন যে, এই নীতিটি এমন ব্যক্তিদের মস্তিষ্কপ্রসূত যারা আধুনিক ডিজিটাল জগত সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, প্রধানমন্ত্রী বা অ্যাঙ্গাস টেলরের মতো নেতারা হয়তো এই অকার্যকর ব্যবস্থার পেছনে কাজ করছেন, যা সাধারণ জনগণের সুরক্ষায় ব্যর্থ হবে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অ্যাঙ্গাস টেলরের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গ্রিনস। হ্যানসন-ইয়ং দাবি করেন যে, টেলর পলিন হ্যানসন এবং ওয়ান নেশন দলের ভয়ে ভীত হয়ে দুর্বল নেতৃত্ব প্রদর্শন করছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুগুলোতে সরকার নতি স্বীকার করছে বলে তিনি মনে করেন।
পাশাপাশি, অস্ট্রেলীয় সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণার তথ্যও সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৮১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলিয়া গিলার্ড সবচেয়ে বেশি বিরোধী আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ে এই বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্ষমতা—দুই মিলিয়ে ক্যানবেরার রাজনীতি এখন সরগরম।
