মাঠের লড়াই যখন ক্ষমতার রাজনীতিতে: ২০২৬ বিশ্বকাপের জয়ে ব্রিটিশ নেতাদের জন্য ৫টি শিক্ষা
ফুটবলের উন্মাদনা কীভাবে রাজনীতিতে হাওয়া দিতে পারে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মেয়াদের শুরুতে ইংল্যান্ডের জয় কি ভাগ্য বদলে দেবে নাকি ১৯৭০ সালের মতো পরাজয়ের গ্লানি টেনে আনবে রাজনৈতিক পতন?

এক নজরে
- ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের ফল ব্রিটিশ নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা করা হয়।
- সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল একই সপ্তাহে হওয়ায় রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে।
- জনগণের আবেগ বুঝতে ব্যর্থ হলে এবং মেকি ফুটবলপ্রেম দেখালে ব্রিটিশ নেতাদের বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
ইংল্যান্ড যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে, তখন পুরো দেশ ৬০ বছরের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘোচানোর আশায় বুক বাঁধছে। এই ক্রীড়া উন্মাদনার সমান্তরালে ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আগামী ২০ জুলাই অ্যান্ডি বার্নহামের সম্ভাব্য দায়িত্ব গ্রহণের সময়টি এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল কার্যত একই সুতোয় গাঁথা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয় তৎকালীন হ্যারল্ড উইলসন সরকারের ডুবন্ত জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করেছিল। অর্থনৈতিক মন্দা ও ট্যাক্স বৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের মধ্যে জয়ে যে জাতীয় উন্মাদনা তৈরি হয়, তা সরকারকে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা দিয়েছিল। তবে রাজনীতিতে ফুটবলের প্রভাব সবসময় ইতিবাচক হয় না।
১৯৭০ সালের স্মৃতি আজও ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বড় সতর্কতা। সেবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাজয়ের মাত্র চার দিন পরেই সাধারণ নির্বাচনে হেরে যান হ্যারল্ড উইলসন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে পরাজয়ের কারণে তৈরি হওয়া হতাশা সরাসরি ব্যালট বাক্সে প্রভাব ফেলেছিল। পরাজয়ের দায়ভার তখন অর্থনীতির চেয়েও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
নাট্যকার জেমস গ্রাহামের মতে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং ব্রিটিশ সামাজিক জীবনের অন্যতম স্তম্ভ। যখন উচ্চ আদালত বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো মানুষের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন ফুটবল স্টেডিয়ামই হয়ে উঠেছে গণজমায়েতের শেষ ভরসা। রাজনীতিবিদরা যদি এই সংহতি বুঝতে ব্যর্থ হন, তবে তারা ভোটারদের মূল স্পন্দনের সাথে সংযোগ হারাবেন।
অবশেষে, ফুটবলের মাঠে রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে বড় শর্ত হলো সত্যবাদিতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মতো প্রিয় ক্লাবের নাম ভুল করার মতো 'ব্রেইন ফেড' মুহূর্তগুলো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্মক হতে পারে। ভোটাররা তাদের নেতাদের থেকে ফুটবলের প্রতিও স্বচ্ছতা ও গভীর অনুরাগ প্রত্যাশা করেন, যা লোক দেখানো সমর্থনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
