ইরানে হামলা থেকে সরে আসলেন ট্রাম্প: সৌদি আরবের উদ্বেগ ও তেহরানের হুঁশিয়ারিতে সিদ্ধান্ত বদল
উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে সৌদির হস্তক্ষেপ ও ইরানের পাল্টা হামলার হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। শান্তি চুক্তির শর্তে এই সাময়িক নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

এক নজরে
- সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি অনুরোধে ট্রাম্প হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
- দ্রুত একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সংঘাতের হুমকি থেকে কিছুটা পিছু হটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, যদি তেহরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানে কোনো নতুন সামরিক হামলা চালাবে না। কয়েক মাস ধরে চলা চরম উত্তেজনার পর ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনকে একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত নমনীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। শনিবার তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং মার্কিন সম্ভাব্য হামলা নিয়ে রিয়াদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি যুদ্ধে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
এর পাশাপাশি তেহরানের কঠোর অবস্থানও ট্রাম্পকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন হামলা হলে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাবে। ইতিমধ্যে কুয়েতে ড্রোন হামলা এবং ওমান সাগরে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণা মূলত একটি শর্তসাপেক্ষ সময়সীমা মাত্র। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও তা খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। মার্কিন প্রশাসন দ্রুত একটি নতুন চুক্তি চায় যা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে মিত্র দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পথে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। সৌদি আরবের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের হস্তক্ষেপ ট্রাম্পের 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। ইরান সরাসরি আলোচনার টেবিলে আসবে নাকি তার আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি। তবে আপাতত যুদ্ধের সরাসরি দামামা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
