বহুমুখী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার
কাবেরী জলবন্টন থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ— একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে চাপে রয়েছেন কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই তার দক্ষতা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।

এক নজরে
- কাবেরী নদীর জলবন্টন ইস্যুতে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে উপ-মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার।
- মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে দলের ভেতর থেকে আসা অভ্যন্তরীণ দাবি মেটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
- বিদাতি টাউনশিপ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে জনরোষ ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা।
কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কার এবং অন্যদিকে আন্তঃরাজ্য জলবন্টন বিরোধ তাকে দ্বিমুখী চাপের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে কাবেরী নদীর জলবন্টন ইস্যুটি কন্নড় রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা সামাল দেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন বড় আলোচনার বিষয় হলো কর্নাটক মন্ত্রিসভার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সম্প্রসারণ। দলের ভেতর থেকে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বিভিন্ন উপদলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা শিবকুমারের নেতৃত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনিক স্তরে শিবকুমার বিদাতি টাউনশিপ প্রকল্পের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই ধরনের বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে স্থানীয়দের স্বার্থরক্ষা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি বেশ জটিল। এর পাশাপাশি শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে অভিযান সরকার শুরু করেছে, তা সাধারণ মানুষের সাধুবাদ পেলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি শিবকুমারের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। তিনি কীভাবে এই জনতুষ্টির রাজনীতি এবং প্রশাসনিক কঠোরতার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখেন, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের স্থায়িত্ব এবং তার নিজস্ব রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। বিরোধীরাও এই সুযোগে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
