মহীশূরের জলাশয় রক্ষায় নাগরিক সচেতনতাই প্রধান শক্তি: মহীশূর সাহিত্য উৎসবে পরিবেশবিদ
মহীশূর লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল-২০২৬-এ পরিবেশকর্মীরা শহরের হ্রদ ও জলাশয় সংরক্ষণে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নাগরিক সতর্কতাই মূলত এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে রক্ষা করেছে।

এক নজরে
- মহীশূর সাহিত্য উৎসবে শহরের জলাশয় সংরক্ষণে নাগরিক আন্দোলনের সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়।
- প্রশাসনিক তৎপরতার চেয়েও স্থানীয় জনগণের সজাগ দৃষ্টিকে হ্রদ রক্ষার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
মহীশূরের পরিবেশ রক্ষা এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মীরা। ২০২৬ সালের মহীশূর সাহিত্য উৎসবে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থানীয় বাস্তবতায় প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করা হয়।
বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, এক সময় মহীশূরের অনেক হ্রদ দখলের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নিরলস প্রচেষ্টায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সমাজের কড়া নজরদারির ফলেই প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
আলোচনায় উঠে আসে যে, কেবল সরকারি প্রকল্প দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ের সম্পৃক্ততা। বিশেষ করে কুক্কারাহাল্লি বা লিঙ্গাম্বুধির মতো ঐতিহাসিক হ্রদগুলোর বাস্তুসংস্থান রক্ষায় মহীশূরের বাসিন্দাদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উৎসবের এই অধিবেশনে পরিবেশবিদরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই জলাশয়গুলোকে বিষমুক্ত এবং সচল রাখার ওপর জোর দেন। তারা সতর্ক করেন যে, নগরায়ণের চাপে প্লাবনভূমি এবং জলাশয়ের সংযোগকারী নালাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা অবিলম্বে সংস্কার করা প্রয়োজন।
পরিশেষে, পরিবেশবাদী আন্দোলনের এই সাফল্যকে বিশ্বের অন্যান্য ক্রমবর্ধমান শহরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। স্থানীয় সংঘাত নিরসন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।
