ইসরায়েলে সাংবিধানিক সংকট: সুপ্রিম কোর্টের রায় মানতে অস্বীকৃতি নেতানিয়াহু সরকারের
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী সরকার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ অমান্য করার হুমকি দিয়েছে, যা দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিচারিক সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

এক নজরে
- ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকরে অস্বীকৃতি জানালো নেতানিয়াহু সরকার।
- নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
- আদালত অবমাননার হুমকির ফলে দেশব্যাপী নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কা।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে তারা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় অনুসরণ করতে বাধ্য নয়। এই সিদ্ধান্তটি দেশটির নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে। সমালোচকদের মতে, এটি আইনের শাসন বা 'রুল অফ ল'-এর ওপর সরাসরি আঘাত।
বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার পরিকল্পনা। আদালত মনে করে যে সরকারের কিছু পদক্ষেপ ক্ষমতার অপব্যবহারের নামান্তর, অন্যদিকে সরকারের দাবি, আদালতের অতিরিক্ত ক্ষমতা জনগণের ভোট দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতির ফলে ইসরায়েলের ভেতরে গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
ইসরায়েলি বিচার বিভাগ এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী জোটের মধ্যে এই সংঘাত গত কয়েক মাস ধরেই তীব্র হচ্ছিল। তবে সরাসরি আদালত অবমাননার এই হুমকি দেশটিতে একটি সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করেছে। যদি সরকার সত্যই আদালতের আদেশ অমান্য করে, তবে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কার নির্দেশ মেনে চলবে—আদালতের নাকি সরকারের—তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক মহলও এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলো ইতিমধ্যে গণতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। তেল আবিব এবং পশ্চিম জেরুজালেমের রাস্তায় আবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ নাগরিক সমাজের বড় একটি অংশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
