মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে তেহরান: প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইরানের ফোনালাপ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের সমকক্ষদের সাথে টেলিফোন সংলাপে তেহরানের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এক নজরে
- যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে 'চূড়ান্ত' জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের।
- তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে আরাগচির জরুরি ফোনালাপ।
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সংহতি কামনায় তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তেহরান জানিয়েছে যে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত আসলে তার উপযুক্ত এবং 'চূড়ান্ত' জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের হুমকি মোকাবিলায় তেহরানের অবস্থান।
আরাগচি তার আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন যে ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো ধরণের উস্কানির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার তারা রাখে। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। প্রতিবেশি দেশগুলোকে আস্থায় নিয়ে তেহরান বোঝাতে চাইছে যে যেকোনো সংঘাত পুরো অঞ্চলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে পেন্টাগন ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার খবর আগেই জানিয়েছে, যা তেহরানকে আরও সতর্ক করে তুলেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিও বাড়িয়ে চলেছে। এই ফোনালাপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তেহরানের শক্ত অবস্থানের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
