ফিফা প্রধানের সাথে মার্কিন বাণিজ্য সচিবের গোপন বৈঠক: বালোগানের লাল কার্ড নিয়ে তৎপরতা
মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে গভীর সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সূত্রমতে, মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের জন্য নেপথ্যে কাজ করেছেন লুটনিক।

এক নজরে
- বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে গোপন নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে লুটনিকের বিরুদ্ধে।
- ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে ফিফা নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে লবিংয়ের এক নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাঠের খেলার শৃঙ্খলা বিষয়ক সিদ্ধান্তেও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন সরকারের এই প্রভাবশালী সদস্য।
গত জুন মাসে নিউ ইয়র্কে এক বিশেষ নৈশভোজে ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো এবং লুটনিক মিলিত হন। মাত্র ৬-৭ জনের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই বৈঠকের খবর এতদিন আড়ালেই ছিল। এতে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরোও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ফিফার অস্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের প্রসঙ্গটি। গত সপ্তাহে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগান লাল কার্ড পেয়ে নিষিদ্ধ হন। সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার জন্য লুটনিক সরাসরি ফিফা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
লুটনিকের সাথে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সখ্যতা এখন আর কেবল সৌজন্যের পর্যায়ে নেই। ফিফা সভাপতিকে ইতিপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দপ্তরেও আতিথেয়তা দিয়েছেন তিনি। এমনকি ম্যাচ চলাকালেও তাদের একসাথে গ্যালারিতে বসে আলোচনা করতে দেখা গেছে।
ফুটনৈতিবিদরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামীতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোকে কেন্দ্র করে ফিফা প্রশাসন ও ট্রাম্প সরকারের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা তৈরি হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই যোগাযোগ পেশাদারিত্বের সীমারেখা লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফিফা সাধারণত ফুটবলীয় সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরোধী হলেও, লুটনিকের এই তৎপরতা সংস্থাটির নিরপেক্ষতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এখন পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা ফিফা—কোনো পক্ষই এই গোপন আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
