আবাসন সংকট ও সামাজিক বৈষম্য বুঝতে নতুন প্রযুক্তি: সাইকেলের গতি কমাবে আর্টিস্টের ডিভাইস
ব্রুকলিন-ভিত্তিক শিল্পী জাস্টিন ব্লাইন্ডার একটি অভিনব ডিভাইস তৈরি করেছেন যা শহরের আবাসন খরচের ভিত্তিতে সাইকেলের প্যাডেলিংকে কঠিন বা সহজ করে তোলে, যা মূলত অর্থনৈতিক অসমতার একটি শারীরিক অনুভূতি প্রদান করে।

এক নজরে
- আবাসন খরচের ডেটা ব্যবহার করে সাইকেলের প্যাডেলিং শক্ত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
- নিউ ইয়র্ক সিটির অর্থনৈতিক বৈষম্যকে ফুটিয়ে তুলতে এই শৈল্পিক প্রয়াস।
- ডিভাইসটি জেন্ট্রিফিকেশন এবং আবাসন সংকটের প্রভাবকে শারীরিক অনুভূতির মাধ্যমে তুলে ধরে।
২০২০ সালের কোভিড লকডাউনের ঠিক আগে যখন জাস্টিন ব্লাইন্ডার তার চাকরি হারান, তখন তিনি বেঁচে থাকার তাগিদে ফুড ডেলিভারি অ্যাপে কাজ শুরু করেন। নিউ ইয়র্ক সিটির রাস্তায় সাইকেল চালানোর সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, কীভাবে একে অপরের পাশে থাকা বিভিন্ন পাড়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল অর্থনৈতিক ব্যবধান রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তার নতুন শিল্পকর্ম 'গ্রাউন্ড ট্রুথ'।
ব্লাইন্ডার একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছেন যা সাইকেলের সাথে যুক্ত করা যায়। এই যন্ত্রটি মূলত ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। যখন একজন আরোহী এমন কোনো এলাকায় প্রবেশ করেন যেখানে বাড়ি ভাড়া বা জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত বেশি, তখন যন্ত্রটি সাইকেলের প্যাডেল চালানোকে অনেক বেশি কঠিন করে তোলে। এর ফলে আরোহী শারীরিকভাবে বুঝতে পারেন যে তিনি একটি ব্যয়বহুল বা সচ্ছল এলাকায় অবস্থান করছেন।
এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিমূর্ত অর্থনৈতিক তথ্যকে মানুষের শারীরিক অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করা। শহরের জেন্ট্রিফিকেশন বা আভিজাত্যকরণের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়, সেই মানসিক চাপকে ব্লাইন্ডার এখানে শারীরিক পরিশ্রমে রূপান্তর করেছেন। এটি কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং নগরায়নের নেতিবাচক প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শৈল্পিক প্রতিবাদ।
ব্লাইন্ডার মনে করেন, ডিজিটাল স্ক্রিনে ডেটা দেখা আর বাস্তবে সেই ডেটার প্রভাব অনুভব করার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। তার এই 'গ্রাউন্ড ট্রুথ' ডিভাইসটি মানুষকে শহর নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। এটি দেখায় যে কীভাবে আবাসন সংকটের মতো বিষয়গুলো আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যদিও তা অনেক সময় সরাসরি দৃশ্যমান হয় না।

