সিয়েরা লিওনের মৎস্যজীবীদের সংকটে ফেলছে চীনা ট্রলারের অবৈধ অনুপ্রবেশ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের উপকূলীয় জলে চীনা ট্রলারের অনিয়মিত ও অবৈধ মাছ ধরার ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা। তাদের অভিযোগ, বিশাল চীনা জাহাজগুলো সাগরের তলদেশ উজাড় করে মাছ নিয়ে যাচ্ছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 07:00
Updated
06 Jul 2026, 07:00
Reading time
2 min
সিয়েরা লিওনের মৎস্যজীবীদের সংকটে ফেলছে চীনা ট্রলারের অবৈধ অনুপ্রবেশ
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • চীনা ট্রলারগুলো সিয়েরা লিওনের জলসীমায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ ধরছে।
  • মাছের মজুদ কমে যাওয়ায় জীবিকা হারাচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা।
  • সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠছে।

সিয়েরা লিওনের সমুদ্রতীরে এখন হাহাকার বিরাজ করছে। দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা যে সমুদ্রের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তা এখন চীনা শিল্প ট্রলারগুলোর কবলে চলে গেছে। স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করছেন যে, আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই চীনা জাহাজগুলো সিয়েরা লিওনের নিজস্ব জলসীমায় ঢুকে পড়ছে এবং সংরক্ষিত স্টকগুলো লুট করে নিচ্ছে।

ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের মতে, আগে তারা কয়েক ঘণ্টা সমুদ্রে জাল ফেললে যে পরিমাণ মাছ পেতেন, এখন পুরো দিন চেষ্টার পরও তার সামান্য অংশও জুটছে না। চীনা ট্রলারগুলো বিশাল জাল ব্যবহার করে মাছের পোনাসহ সবকিছু ছেঁকে তুলে নিচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যিক এই জালগুলো অনেক সময় অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো সাগরের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং বাস্তুসংস্থান নষ্ট করে। স্থানীয় জেলেরা এর নাম দিয়েছেন 'ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং', কারণ এই জাহাজগুলো সমুদ্রের মাছের ভাণ্ডার সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

সিয়েরা লিওনের সরকারি পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানোর দাবি উঠলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন কম। পর্যাপ্ত নজরদারি নৌযানের অভাবে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর ফলে কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ডও ভেঙে পড়ছে।

ভুক্তভোগী জেলেরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পশ্চিম আফ্রিকার সমুদ্র উপকূল একসময় সম্পূর্ণ মাছশূন্য হয়ে পড়বে। এতে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং আমিষের অভাব প্রকট আকার ধারণ করবে।