লিচেনস্টাইনের সিংহাসনে বসতে পারবেন নারীরা, উত্তরাধিকার আইনে ঐতিহাসিক পরিবর্তন
ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র লিচেনস্টাইন তাদের দীর্ঘদিনের রাজকীয় উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে রাজপরিবারের নারী সদস্যরাও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন।

এক নজরে
- লিচেনস্টাইনে নারী উত্তরাধিকারীদের সিংহাসনে বসার আইনি বাধা দূর হলো।
- দেশটির জাতীয় দিবস উদযাপনের সময় এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
- এর আগে শুধুমাত্র পুরুষ সদস্যদের উত্তরাধিকারী হওয়ার বিধান ছিল।
মধ্য ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র লিচেনস্টাইন তাদের রাজবংশীয় উত্তরাধিকার আইনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক শতাব্দীর প্রথা ভেঙে দেশটির রাজপরিবার এখন থেকে নারী সদস্যদেরও সিংহাসনে আরোহণের অধিকার প্রদান করেছে। এর আগে শুধুমাত্র পুরুষ বংশধরেরাই রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির জাতীয় দিবসে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি আসে। আল্পস পর্বতমালা বেষ্টিত প্রায় ৪৪ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিতে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা ইউরোপের অন্যান্য সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এই পরিবর্তন দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
লিচেনস্টাইনের বর্তমান শাসক প্রিন্স হ্যান্স-অ্যাডাম (দ্বিতীয়) এবং তার উত্তরসূরি প্রিন্স অ্যালোইস এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা মনে করেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রাজপরিবারের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লিচেনস্টাইন ইউরোপের অন্যান্য রাজতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে এল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে লিচেনস্টাইন ছিল ইউরোপের অন্যতম রক্ষণশীল রাষ্ট্র যেখানে নারীদের ভোটাধিকার পেতেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এখন রাজকীয় উত্তরাধিকার আইনে এই পরিবর্তন দেশটিতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে এক বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
