ইউক্রেনের ড্রোন কৌশল: রাশিয়ার ভৌগোলিক বিশালতাকেই অস্ত্রে রূপান্তর করছে কিয়েভ
ইউক্রেনের ৪১৪তম এভিয়েশন ব্রিগেড বা 'ম্যাগিয়ার্স বার্ডস' এখন অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আক্রমণ জোরদার করছে। রাশিয়ার বিশাল আয়তনকে তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়ে নতুন রণকৌশল সাজিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

এক নজরে
- ইউক্রেনের 'ম্যাগিয়ার্স বার্ডস' ব্রিগেড রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন যুদ্ধ তীব্রতর করেছে।
- রাশিয়ার বিশাল আয়তনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাডার ফাঁকি দিচ্ছে ক্ষুদ্র ড্রোন।
- প্রযুক্তিনির্ভর এই কৌশলে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দাবি করছেন ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গনে এখন বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ইউক্রেনের গ্রামাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে শক্তিশালী ড্রোন, যা রাশিয়ার বিশাল ভূখণ্ডকে পাশ কাটিয়ে আঘাত হানছে লক্ষ্যবস্তুতে। দেশটির ৪১৪তম এভিয়েশন ব্রিগেডের সদস্যরা, যারা মূলত 'ম্যাগিয়ার্স বার্ডস' নামে পরিচিত, এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা প্রথাগত যুদ্ধের চেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন যুদ্ধকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সম্প্রতি এক গ্রামীণ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ইউক্রেনীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রে-র তত্ত্বাবধানে একটি নতুন মডেলের ড্রোন আকাশে ওড়ানো হয়। এই ড্রোনগুলো দেখতে অনেকটা ছোট বিমানের মতো এবং এগুলো খুব কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম, যার ফলে শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। এই বিশেষ প্রযুক্তি রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কমান্ডারের মতে, এটি কেবল আকাশপথে আক্রমণ নয়, বরং গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারের মধ্যকার লড়াইয়ের একটি বহিঃপ্রকাশ। তাদের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার বিশাল ভৌগোলিক আয়তনকে তাদের দুর্বলতায় রূপান্তর করা। বিশাল সীমানা পাহারা দেওয়া মস্কোর জন্য যেমন কঠিন, ড্রোন দিয়ে সেই ফাঁক খুঁজে বের করা কিয়েভের জন্য ততটাই সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র থেকে দেখা যায়, সানফ্লাওয়ার ক্ষেতের আড়াল থেকে এই ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। ইঞ্জিন স্টার্ট হওয়ার পর এক তীব্র গর্জনে ড্রোনগুলো উড়ে যায় অজানা গন্তব্যে। এই ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত হয়েছে সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর প্রযুক্তি, যা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে ইউক্রেন প্রমাণ করছে যে যুদ্ধের ময়দানে কেবল জনবল নয়, উদ্ভাবনী শক্তিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ড্রোন স্ট্রাইক ফোর্সের মূল শক্তি হলো তাদের গতিশীলতা। নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ঘাঁটি না থাকায় রুশ গোয়েন্দা ড্রোন বা স্যাটেলাইট দিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীরে আঘাত হেনে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করছে। সামনের দিনগুলোতে এই ড্রোন যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
