অটিজম সেবায় জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বড় বাধা বর্তমান কর ব্যবস্থা
ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার (আইএসি) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবার ওপর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই কর আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে অন্তর্ভুক্তি ব্যাহত করছে।

এক নজরে
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের থেরাপি সেবার ওপর জিএসটি প্রত্যাহারের জোরালো দাবি।
- অটিজম সেবাকে করমুক্ত করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের আহ্বান।
- প্রতিবন্ধকতার তীব্রতার বদলে পরিষেবার ভিত্তিতে কর ছাড়ের নতুন প্রস্তাব।
ভারত অটিজম সেন্টার (আইএসি) সম্প্রতি একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য থেরাপি ও সহায়তা পরিষেবার ওপর আরোপিত পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) বাতিল করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংস্থার মতে, বর্তমান কর কাঠামোটি অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের ওপর একটি বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করছে, যা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জামের ওপর কর ছাড় থাকলেও, থেরাপিউটিক পরিষেবার ক্ষেত্রে করের হার নিয়ে অস্পষ্টতা ও উচ্চ হার বিদ্যমান। আইএসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, অটিজম বা এই ধরনের নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যাগুলো নিরাময়যোগ্য কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনটিতে প্রতিবন্ধকতার তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে কর ছাড় না দিয়ে, পরিষেবার ধরনের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, কিন্তু আইএসি-র মতে এটি অনেক পরিবারকেই সহায়তার আওতার বাইরে রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত হলো স্বাস্থ্যসেবা সবার নাগালে রাখা। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়তি করের বোঝা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুতর সংকট। জিএসটি প্রত্যাহার করা হলে তা কেবল আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে।
