সুরক্ষা ঝুঁকির কারণে কালেশ্বরম ব্যারেজে পানি সঞ্চয় নিষিদ্ধ করলেন মন্ত্রী উত্তম রেড্ডি
তেলেঙ্গানার সেচমন্ত্রী এন. উত্তম কুমার রেড্ডি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এনডিএসএ-এর পরামর্শ অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কালেশ্বরম প্রকল্পের ব্যারেজগুলোতে পানি ধরে রাখা হবে না। বিরোধী দল বিআরএস-এর পাম্প হাউস চালু করার দাবিকে তিনি 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন।

এক নজরে
- এনডিএসএ-এর পরামর্শ অনুযায়ী কালেশ্বরম ব্যারেজে পানি জমা করবে না সরকার।
- বিআরএস-এর পাম্প হাউস চালুর দাবিকে 'হাস্যকর' বলে উড়িয়ে দিলেন সেচমন্ত্রী।
- মেদিকাড্ডা সহ তিনটি ব্যারেজের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করাই এখন অগ্রাধিকার।
তেলেঙ্গানা সরকার কালেশ্বরম লিফট ইরিগেশন স্কিমের (KLIS) অধীনে নির্মিত ব্যারেজগুলোতে পানি সঞ্চয় না করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের সেচমন্ত্রী এন. উত্তম কুমার রেড্ডি ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি অথরিটি (NDSA)-এর বিশেষজ্ঞ মতামতের বরাত দিয়ে এই ঘোষণা দেন। কাঠামোবদ্ধ নিরাপত্তার অভাব এবং ব্যামগুলোর বিদ্যমান ত্রুটির কারণে এই মুহূর্তে সেখানে পানি জমা করা বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
মন্ত্রী রেড্ডি প্রধান বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (BRS)-এর সমালোচনার করা জবাব দিয়েছেন। বিআরএস নেতারা কান্নেপল্লী পাম্প হাউসের মোটরগুলো অবিলম্বে চালু করার যে দাবি তুলেছিলেন, মন্ত্রী তাকে 'সিলি' বা হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ব্যারেজের ভিত্তি এবং কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে পাম্প চালানো হলে তা আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এনডিএসএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মেদিকাড্ডা, অন্নরাম এবং সুন্দরিল্লা ব্যারেজে ফাটল ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত বছর মেদিকাড্ডা ব্যারেজের এক অংশ দেবে যাওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞ দল পরামর্শ দিয়েছে যে, পূর্ণাঙ্গ মেরামতের আগে পানির চাপ বাড়ানো হলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সরকারের এই অবস্থান মূলত কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, বিআরএস আমলে তড়িঘড়ি করে নেওয়া সিদ্ধান্তের খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার কেবল টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আগামী মৌসুমের আগে বিকল্প উপায়ে সেচ সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
