মনোহরদীতে জমি নিয়ে বিরোধ: আদালতের রায়ের গণবিজ্ঞপ্তি ভাঙচুর ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ
নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের রায় ও ডিক্রির তথ্যসংবলিত গণবিজ্ঞপ্তি ভেঙে ফেলা এবং মো. শফিকুল ইসলামকে জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শফিকুলের দাবি, হাইকোর্টের রায়ে চন্দনবাড়ি মৌজার বিরোধপূর্ণ জমিতে তাঁর স্বত্ব ও দখলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় জিডি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের রায় ও ডিক্রির তথ্যসংবলিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি ভেঙে ফেলা এবং মামলার বাদীকে জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চন্দনবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মো. শফিকুল ইসলাম। চন্দনবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম প্রথম দেওয়ানি আপিল নম্বর ৩২১/২০১৪ মামলার বাদী ও আপিলকারী। তাঁর দাবি, ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ গত ২১ মে ২০২৬ রায় এবং ২২ জুলাই ২০২৬ ডিক্রি দিয়েছেন। শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রায় ও ডিক্রিতে চন্দনবাড়ি মৌজার তফসিলভুক্ত জমিতে তাঁর স্বত্ব ও দখল রয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বিবাদী ও প্রতিবাদীদের ওই জমিতে স্বত্ব-দখল নেই বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ২০/২০১০-এ নরসিংদীর যুগ্ম জেলা জজ, দ্বিতীয় আদালতের ২ জুন ২০১৪ তারিখের রায় ও ডিক্রি হাইকোর্ট বিভাগ রদ করেছেন। গণবিজ্ঞপ্তি ভাঙচুরের অভিযোগ আদালতের রায় ও ডিক্রির বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এলাকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছিল বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাদল মিয়া, তাঁর ছেলে রাহাদ, বোরহান উদ্দীন এবং তাঁর ছেলে তাওহীদ ওই গণবিজ্ঞপ্তি ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের রায় ও ডিক্রির বিষয়টি জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি ভেঙে ফেলার পাশাপাশি আমাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে মনোহরদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে আবেদন করবেন। যে জমি নিয়ে বিরোধ অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি মনোহরদীর চন্দনবাড়ি মৌজায় অবস্থিত। জমিটি সিএস খতিয়ান ৪১, এসএ খতিয়ান ৬৮ এবং আরএস খতিয়ান ৪১২-এর অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বর সিএস ও এসএ ১৩০৭ এবং আরএস ২৭৭৫। মোট ৪৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৩ শতাংশ নিয়ে বিরোধ চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির সীমানা হিসেবে উত্তরে আব্দুল কাদেরের জমি, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে মাসুদ রানার জমি এবং পশ্চিমে মাসুদ মাহবুব গংয়ের জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
