নিউফাউন্ডল্যান্ডে হুমকির মুখে বনাঞ্চল: ১৮৭৮ সালে আনা মুস এখন পরিবেশের জন্য কাল

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে শতবর্ষ আগে খাদ্য উৎস হিসেবে আনা মুস এখন বনাঞ্চলের প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক শিকারির অভাবে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ধ্বংস করছে দ্বীপের বাস্তুসংস্থান।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
15 Aug 2026, 17:31
Updated
15 Aug 2026, 17:30
Reading time
2 min
নিউফাউন্ডল্যান্ডে হুমকির মুখে বনাঞ্চল: ১৮৭৮ সালে আনা মুস এখন পরিবেশের জন্য কাল
বিজ্ঞান · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • ১৮৭৮ সালে খাদ্য হিসেবে আনা মুস এখন দ্বীপের বনাঞ্চল ধ্বংস করছে।
  • প্রাকৃতিক শিকারি না থাকায় বর্তমানে মুসের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে।
  • বনের পুনর্জন্ম রক্ষায় কর্তৃপক্ষ শিকারের কোটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বর্তমানে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার যখন এই দ্বীপে 'মুস' নামক বিশালাকার হরিণ জাতীয় প্রাণীগুলো আনা হয়েছিল, তখন উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়দের জন্য মাংসের জোগান দেওয়া। কিন্তু দেড় শতাব্দী পরে সেই সিদ্ধান্তই এখন বনাঞ্চলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে দ্বীপে মুসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারে। বিশাল এই জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে তারা উজাড় করে ফেলছে বনের নতুন চারাগাছগুলো। বিশেষ করে বলসাম ফার এবং বার্চ গাছের কচি ডালপালা ও পাতা এদের প্রধান খাদ্য, যা বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, নিউফাউন্ডল্যান্ডে এই প্রাণীদের কোনো প্রাকৃতিক শিকারি যেমন—নেকড়ে বা ভালুক নেই। ফলে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রাকৃতিক বাধা কাজ করছে না। মুসগুলো বনের চারাগাছ খেয়ে ফেলায় বনাঞ্চল ক্রমে চারণভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শিকারের কোটা পুনর্নির্ধারণ করছে। বন রক্ষা এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরিবেশগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে পরিকল্পিত শিকার পদ্ধতিকে একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।