জম্মু-কাশ্মীরে বন অধিকার আইন বাস্তবায়নে জোর, উচ্ছেদ নোটিশ বন্ধের কড়া নির্দেশ
জম্মু ও কাশ্মীর সরকার বন অধিকার আইন (এফআরএ) দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। বন বিভাগকে নতুন করে উচ্ছেদ নোটিশ জারি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক নজরে
- বন অধিকার আইন (FRA) বাস্তবায়নে প্রশাসনের বিশেষ তাগিদ।
- বনভূমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা।
- জম্মুর বিতর্কিত এলাকাগুলোতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন বন অধিকার আইন (এফআরএ) বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রশাসনিক আদেশে বন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বনভূমিতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো উচ্ছেদ নোটিশ জারি না করে। এই পদক্ষেপটি মূলত ওই অঞ্চলের বননির্ভর জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিগত কয়েক মাস ধরে জম্মুর সানজুয়ান, বাথিন্ডি, রাইকা এবং সিধরা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে রাজভবন এবং নির্বাচিত সরকারের মধ্যে এক ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশিকা সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার চাইছে আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রকৃত অধিকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যারা বনভূমির ওপর নির্ভরশীল এবং প্রথাগতভাবে সেখানে বসবাস করছেন, তাদের অধিকার রক্ষায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে হবে। বনাঞ্চল এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবিকার ভারসাম্য বজায় রাখাই বর্তমান নীতিমালার মূল লক্ষ্য। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বলপ্রয়োগ করা যাবে না।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় নেতারা। তারা মনে করেন, ২০০৬ সালের বন অধিকার আইন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে জম্মু ও কাশ্মীরের গুজ্জর এবং বকরওয়াল সম্প্রদায়ের মতো যাযাবর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
