এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তার ও ট্রাম্পের ইরান নীতি: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এশিয়ায় বেইজিং যখন নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে মরিয়া, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর মূলত ইরানের দিকে। ওয়াশিংটনের এই ভিন্নমুখী অগ্রাধিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরেফিন মোস্তফাস্টাফ রিপোর্টার
Published
15 Aug 2026, 16:00
Updated
15 Aug 2026, 16:00
Reading time
2 min
এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তার ও ট্রাম্পের ইরান নীতি: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • এশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই প্রধান।
  • মার্কিন মনোযোগের অভাবে এশীয় মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কৌশলগত লক্ষ্য ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। বেইজিং যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের শক্তির সিংহভাগ ব্যয় করছে ইরানকে মোকাবিলা করার প্রচেষ্টায়। এই পরিস্থিতি এশীয় মিত্রদের মধ্যে এক ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কার সৃষ্টি করছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এশিয়ায় এক শক্তিশালী বলয় তৈরির লক্ষে 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছেন। একই সাথে দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের নৌ-উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে আঞ্চলিক আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে বেইজিং। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি মূলত ইরানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে আসছে। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ওয়াশিংটনের মনোযোগ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে এশিয়ায় মার্কিন অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, বেইজিং তা পূরণে অত্যন্ত সক্রিয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই 'ইরান-কেন্দ্রিক' নীতি এশীয় মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প পথ খুঁজছে। চীন এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন বলয়ভুক্ত দেশগুলোকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় কে জয়ী হয়, তা নির্ভর করবে আমেরিকার আগামী দিনের ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ওপর।

আরেফিন মোস্তফা
স্টাফ রিপোর্টার