ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে কড়া মেটা; অস্ট্রেলীয় রাজকীয় কমিশনের সামনে নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা

ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব প্রচার বন্ধ করতে 'জায়নিস্ট' শব্দটির অপব্যবহার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মেটা। অস্ট্রেলিয়ার একটি রাজকীয় কমিশনের সামনে সংস্থাটি তাদের নীতি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 06:45
Updated
06 Jul 2026, 06:45
Reading time
2 min
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে কড়া মেটা; অস্ট্রেলীয় রাজকীয় কমিশনের সামনে নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা
প্রযুক্তি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব রুখতে মেটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে 'জায়নিস্ট' শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
  • অস্ট্রেলীয় রাজকীয় কমিশনের শুনানিতে মেটা তাদের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
  • রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত শব্দগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত একটি রাজকীয় কমিশনের (Royal Commission) শুনানিতে অংশ নিয়েছে। সেখানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, তারা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে 'জায়নিস্ট' বা জায়নবাদী শব্দটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মূলত ইহুদিদের লক্ষ্য করে ঘৃণ্য বক্তব্য বা ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব ছড়ানোর ক্ষেত্রে যখন এই শব্দটি ছদ্মনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখনই এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুনানিতে মেটা কর্মকর্তারা জানান, তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষ ছড়াতে সরাসরি ইহুদি শব্দটি ব্যবহার না করে অনেক সময় জায়নিস্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি মেটার হেইট স্পিচ বা ঘৃণ্য বক্তব্য সংক্রান্ত নীতিমালার লঙ্ঘন। এই ধরনের বিষয়বস্তু শনাক্ত করতে এবং সরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানব মডারেটরদের ব্যবহারের উপরও জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

কমিশনের সামনে মেটা আরও স্পষ্ট করেছে যে, রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে জায়নবাদের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ নয়, তবে যখন এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার হাতিয়ার হয়, তখন তা সরিয়ে ফেলা হবে। এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে অনলাইনে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই রয়াল কমিশন বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর প্রভাব এবং এটি নিয়ন্ত্রণে প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখছে। মেটার এই স্বীকারোক্তি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও তদারকি বাড়ানোর নতুন পথ প্রশস্ত করল।