সেউতা সংকট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংহতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী
উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় ৫০ হাজারেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালিসহ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াক 'স্বার্থপর' বলে সমালোচনা করেছেন।

এক নজরে
- সেউতায় একদিনে ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসীর প্রবেশের ফলে জরুরি অবস্থা জারি।
- স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালিসহ অন্য দেশের অসহযোগিতাকে 'স্বার্থপরতা' বলে বর্ণনা করেছেন।
- সংকট নিরসনে ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক এবং ফ্রন্টেক্সের বিশেষজ্ঞদের তলব।
উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় সাম্প্রতিক গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ ঐক্য বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসী এই সীমান্তে প্রবেশ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইইউ দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইতালির নাম উল্লেখ করে তিনি একে 'মেরুকরণ এবং বেআইনি প্রতিক্রিয়া' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সানচেজের মতে, এই সংকট মুহূর্তে ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত ছিল সংহতি এবং সহানুভূতি প্রদর্শন করা, কিন্তু অনেক দেশ এই ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং সীমান্ত সংস্থা 'ফ্রন্টেক্স'-এর বিশেষজ্ঞরা একটি প্রাথমিক জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্পেন সরকারের অভিযোগ, মানবিক সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপীয় সংহতিকে নড়বড়ে করে দেওয়া হচ্ছে। সানচেজ স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের একতরফা এবং কঠোর মনোভাব দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের অভিবাসন নীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্রাসেলসের কর্মকর্তারা এই অভূতপূর্ব অভিবাসী প্রবাহ সামলাতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছেন। ফ্রন্টেক্সের বিশেষজ্ঞরা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজছেন। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই বিশেষ বৈঠকে অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেউতা সংকট এখন কেবল স্পেনের সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিগত ঐক্যের এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
