তালেবান শাসনের পাঁচ বছর: ফ্রান্সে আফগান শরণার্থীদের জীবন সংগ্রাম ও নতুন পথচলা
২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর হাজার হাজার আফগান নাগরিক ফ্রান্সে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন দেশে ভাষা ও আবাসন সংকট জয় করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে লিপ্ত তারা, যেখানে নারী স্বাধীনতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

এক নজরে
- ফ্রান্সে বসবাসরত আফগান শরণার্থীদের জীবন পুনর্গঠনের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো।
- ভাষা ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নারীদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন স্বাধীনতার সুযোগ।
- পেশাদার চিকিৎসকদের জন্য ফ্রান্সে পুনরায় ক্যারিয়ার শুরু করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ এখন ফ্রান্সে তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। তালেবান শাসনের অধীনে জীবন যখন হুমকির মুখে ছিল, তখন তারা কেবল প্রাণ রক্ষার্থে ইউরোপের এই দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এখন পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সেই দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।
ফ্রান্সে আশ্রয় নেওয়া এসব শরণার্থীদের জন্য পথটি মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম দিকে ভাষাগত বাধা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফরাসি ভাষা শেখা থেকে শুরু করে একটি স্থায়ী আবাসস্থল খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উচ্চ শিক্ষিত আফগানদের জন্য তাদের পুরনো পেশায় ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে নারী চিকিৎসকদের মতো পেশাজীবীদের জন্য ফ্রান্স এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। আফগানিস্তানে যেখানে নারীদের মৌলিক অধিকার এবং শিক্ষার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ফ্রান্সে সেখানে তারা স্বাধীনভাবে চলাচল ও কাজের অধিকার পাচ্ছেন। তবে ফারিদিনা সামাদির মতো পেশাজীবীদের জন্য ফ্রান্সে তাদের চিকিৎসকের পেশা পুনরায় শুরু করা এক দীর্ঘ এবং আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ফরাসি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্থানীয় এনজিওগুলো এই শরণার্থীদের একীভূত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আবাসন সংকট মোকাবিলায় কিছু সরকারি সহায়তা থাকলেও বড় শহরগুলোতে ঘর খুঁজে পাওয়া এখনো কঠিন। তবুও সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় অনেক আফগান এখন ফ্রান্সকেই তাদের দ্বিতীয় নিবাস হিসেবে মেনে নিয়েছেন।
নতুন এই পরিবেশে আফগান কিশোর-কিশোরীরা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা দেখাচ্ছে। তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের জন্য নিষিদ্ধ স্কুলগুলো এখন তাদের কাছে কেবল দুঃস্বপ্ন। তারা এখন ফরাসি সংস্কৃতির সাথে মিশে গিয়ে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
অবশেষে, এই পাঁচ বছরের পথচলা কেবল টিকে থাকার নয়, বরং নতুন করে আত্মপরিচয় গড়ার। আফগান শরণার্থীরা প্রমাণ করছেন যে প্রতিকূলতা জয় করে নতুন দেশেও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব। তাদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সারা বিশ্বের শরণার্থী সমস্যার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
