ট্রান্সজেন্ডার শিশুদের সমর্থন দেওয়া 'শিশু নির্যাতন': অস্ট্রেলীয় সিনেটরের মন্তব্যে বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন পার্টির সিনেটর টাইরন হুইটেন ট্রান্সজেন্ডার শিশুদের সমর্থনকারী অভিভাবকদের কর্মকাণ্ডকে শিশু নির্যাতন হিসেবে অভিহিত করেছেন। একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে তার এমন বিতর্কিত মন্তব্যে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
16 Aug 2026, 02:30
Updated
16 Aug 2026, 02:30
Reading time
2 min
ট্রান্সজেন্ডার শিশুদের সমর্থন দেওয়া 'শিশু নির্যাতন': অস্ট্রেলীয় সিনেটরের মন্তব্যে বিতর্ক
রাজনীতি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • সিনেটর হুইটেন ট্রান্সজেন্ডার শিশুদের সমর্থনকে 'শিশু নির্যাতন' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
  • তিনি দাবি করেছেন যে নারী ও পুরুষের বাইরে সব পরিচয়ই 'মানসিক অসুস্থতা'।
  • ওয়ান নেশন পার্টির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও একই ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর টাইরন হুইটেন লিঙ্গ বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। একটি ইউটিউব টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ে সমর্থন করেন, তারা আসলে শিশু নির্যাতন করছেন। হুইটেনের মতে, বিশ্বে শুধুমাত্র পুরুষ ও নারী এই দুটি লিঙ্গ বিদ্যমান এবং এর বাইরে অন্য যেকোনো পরিচয়কে তিনি 'মানসিক অসুস্থতা' হিসেবে বর্ণনা করেন।

গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ার এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, হুইটেন একা নন, তার রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের প্রধান পাউলিন হ্যানসন এবং সিনেটর ম্যালকম রবার্টসও বিভিন্ন সময়ে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। দলটির এই অবস্থানের কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের তীব্র সমালোচনা করছে। হুইটেনের এই মন্তব্যগুলোকে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ওয়ান নেশন পার্টি দীর্ঘকাল ধরেই তাদের উগ্র রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো দেশটির সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীরা বারবার জানিয়েছেন যে, লিঙ্গ পরিচয় কোনো মানসিক ব্যাধি নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির সহজাত অনুভূতির বিষয়।

সিনেটর হুইটেনের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সরকারের কাছে জবাবদিহিতার দাবি তুলেছে। তারা মনে করেন, সংসদ সদস্যদের এমন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সমাজে ঘৃণা ছড়াতে সাহায্য করে এবং ট্রান্সজেন্ডার শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই বিতর্ক এখন অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।