ট্রাম্প আমলের গোপন সমন ফাঁস: উত্তর কোরিয়া বিষয়ক সংবাদের উৎস জানতে এনওয়াইটি-কে চাপ
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত একটি সংবাদের গোপন উৎস উন্মোচনের জন্য তাদের ওপর আইনি চাপ সৃষ্টি করেছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এই হস্তক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এক নজরে
- ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টের উৎস জানতে সমন পাঠিয়েছিল।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এই হস্তক্ষেপকে সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থাগুলো নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছে।
- বর্তমানে বাইডেন প্রশাসন এই ধরণের নজরদারির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে উত্তর কোরিয়া বিষয়ক একটি সংবাদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের লক্ষে সংবাদপত্রের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ এই তথ্যের উৎস বা সোর্স খুঁজে বের করতে সমন জারি করেছিল, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের একটি সংবেদনশীল সংবাদের পর বিচার বিভাগ এই পদক্ষেপ নেয়। সাধারণত সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ড সেই প্রথাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের মতে, এটি মুক্ত সাংবাদিকতার পথে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চেয়েছিল।
বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সমন জারির মাধ্যমে সাংবাদিকদের টেলিফোন রেকর্ড বা ইমেইল যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি কোনো কর্মকর্তা তথ্য ফাঁস করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিল প্রশাসন। তবে আইনি বাধার কারণে এনওয়াইটি এই তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগ এই ধরণের সমন জারির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, ট্রাম্প আমলের এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার ও সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করেন, তথ্যের উৎস গোপন রাখা সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন নজরদারি চালানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। উত্তর কোরিয়ার মতো একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করাকে যখন অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, তখন তা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করে।
এই উদ্ঘাটনটি এমন এক সময় এল যখন যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা আইন নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য কঠোর আইনি কাঠামো গঠনের দাবি উঠছে।
