হায়দ্রাবাদ আবাসন বাজার: ভারতের শীর্ষ আট শহরের মধ্যে ব্যয়ের নিরিখে তৃতীয় স্থানে
নাইট ফ্রাঙ্কের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হায়দ্রাবাদের আবাসন খাতের ক্রমবর্ধমান খরচের কথা। সাশ্রয়ী মূল্যের দিক থেকে শহরটি বর্তমানে ভারতের প্রধান আটটি মেট্রো শহরের তালিকায় তলানির দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এক নজরে
- সাশ্রয়ী মূল্যের দিক থেকে হায়দ্রাবাদ ভারতের শীর্ষ ৮ শহরের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
- আইটি সেক্টরের প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আবাসনের দাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আয়ের তুলনায় বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমশ কমছে।
ভারতের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে আবাসন খাতের ক্রয়ক্ষমতা যাচাই করতে গিয়ে নাইট ফ্রাঙ্ক তাদের সাম্প্রতিক সূচকে হায়দ্রাবাদকে একটি ব্যয়বহুল বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, হায়দ্রাবাদ ভারতের শীর্ষ আটটি শহরের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি মূলত ক্রমবর্ধমান স্থাবর সম্পত্তির মূল্য এবং উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন এলাকাগুলোর প্রভাবে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই এবং আহমেদাবাদের মতো বড় শহরগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে হায়দ্রাবাদের রিয়েল এস্টেট মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ির দাম এবং ব্যবহারিক আয়ের অনুপাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এখানে মানসম্মত আবাসন কেনা দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন সম্ভাবনার খোঁজ করলেও প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
নাইট ফ্রাঙ্কের এই বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে হায়দ্রাবাদে আইটি খাতের প্রসারের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন আবাসন চাহিদাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। ফলে জমির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের চূড়ান্ত বিক্রয় মূল্যের ওপর। যদিও কিছু শহরে দাম স্থিতিশীল রয়েছে, হায়দ্রাবাদে সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদের হার এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি আবাসন বাজারের এই প্রতিকূলতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। যদি বর্তমান ধারা বজায় থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই শহরে সাশ্রয়ী আবাসনের পরিধি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
