ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস: জগৎ মুরারি ও এফটিআইআই-এর বিদ্রোহী চলচ্চিত্র ভাবনার উত্তরাধিকার
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই) এবং এর প্রাক্তন প্রধান জগৎ মুরারির অবদান পুনরায় আলোচনায় এসেছে। জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলো কি এখনও স্বাধীন চিন্তাবিদ তৈরির ক্ষমতা রাখে?

এক নজরে
- ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে এফটিআইআই-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জগৎ মুরারির অবদান স্মরণ।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন চিন্তার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক।
- ভারতীয় সিনেমার নবজাগরণে পুনে চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউটের ঐতিহাসিক ভূমিকা।
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশটির চলচ্চিত্র জগতের এক অবিস্মরণীয় প্রতিষ্ঠান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই) এবং এর রূপকার জগৎ মুরারির অবদান নতুন করে মূল্যায়িত হচ্ছে। এক সময় এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল ভিন্নমতাবলম্বী এবং সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সূতিকাগার, যারা ভারতীয় সিনেমার পরিচিত রূপরেখা বদলে দিয়েছিলেন।
জগৎ মুরারির নেতৃত্বে এফটিআইআই কেবল একটি কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার স্বাধীনতা পেতেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন এক চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় থেকেও রাষ্ট্রের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে পিছপা হবে না।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক জনহিতকর বা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি আগের মতো স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে? জগৎ মুরারির জমানায় যে ধরণের শৈল্পিক বিদ্রোহ দেখা যেত, তা বর্তমানের নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর বিতর্ক চলছে।
ভারতের স্বাধীনতার আট দশক পূর্তিতে এই বিতর্কটি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মুরারির উত্তরাধিকার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির প্রকৃত বিকাশ তার সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যেই নিহিত। এফটিআইআই-এর সেই সোনালী দিনগুলো আজও তরুণ নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে, যারা সিনেমার মাধ্যমে সমাজের গভীর অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরতে চান।
