ইউরোপজুড়ে ভাড়ায় খুনি হিসেবে বাড়ছে কিশোরদের ব্যবহার: আতঙ্কের নাম ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক
ইউরোপের অপরাধ জগতে এখন নতুন এক আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-আ-সার্ভিস’ মডেল। কুখ্যাত ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক কিশোরদের ব্যবহার করে ইউরোপজুড়ে কমপক্ষে ৩৫টি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

এক নজরে
- ইউরোপে ৩৫টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক।
- টাকার বিনিময়ে সহিংসতা বা ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-আ-সার্ভিস’ মডেলে চলছে খুনি নিয়োগ।
- আইনি জটিলতা এড়াতে কিশোরদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করছে অপরাধী সিন্ডিকেটগুলো।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এখন নতুন এবং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপরাধ জগতের শীর্ষ সিন্ডিকেটগুলো এখন প্রশিক্ষিত পেশাদার খুনিদের বদলে কিশোর-কিশোরীদের রিক্রুট করছে। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই তরুণদের অপরাধের পথে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক নামে পরিচিত একটি দুর্ধর্ষ সংগঠন এই ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-আ-সার্ভিস’ বা টাকার বিনিময়ে সহিংসতার প্রথার জনক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই চক্রটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অন্তত ৩৫টি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই খুনিদের অনেকের বয়সই ১৮ বছরের নিচে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিশোরদের ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো আইনি শিথিলতা। অনেক দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের সাজা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক কম। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই অপরাধী চক্রগুলো কিশোরদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। খুনের বিনিময়ে তাদের নির্দিষ্ট অংকের অর্থ এবং বিলাসবহুল জীবনের প্রলোভন দেখানো হয়।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন আন্তঃদেশীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কিশোরদের ট্র্যাকিং এবং অপরাধীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। তবে সীমানা পেরিয়ে এই ধরনের অপরাধ দমনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি জটিলতা।
