হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা সারের জাহাজ মুক্তি পাওয়ায় ভারতের কৃষকদের স্বস্তি
হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ১৫টি সারের কার্গো জাহাজ ভারতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এর ফলে খরিফ মৌসুমে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের যে উদ্বেগ ছিল তা হ্রাস পেয়েছে এবং দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত হয়েছে।

এক নজরে
- ২০টি জাহাজের মধ্যে ১৫টি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের পথে রওনা হয়েছে।
- গত তিন মাসে ভারতে ইউরিয়া উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
- খরিফ মৌসুমে কৃষকদের জন্য কোনো সারের ঘাটতি থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
আমদানি করা সারবাহী বেশ কিছু জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকা পড়ার পর পুনরায় সচল হওয়ার সংবাদে ভারতের কৃষি খাতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ২০টি জাহাজের মধ্যে ১৫টি ইতিমধ্যে তাদের গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে। এই জাহাজগুলোতে থাকা কাঁচামাল ভারতের আসন্ন চাষাবাদের মৌসুমে রাসায়নিক সারের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিগত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ভারত সরকার বিকল্প পথ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে এই জট নিরসনে কাজ করেছে। মূলত খরিফ মৌসুমের শুরুতে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যা এই সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতেও জোর দিয়েছে। গত তিন মাস ধরে দেশের অভ্যন্তরে ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ের ডিলার এবং কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়োচিত এই সরবরাহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যশস্যের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। আমদানিকৃত এই চালানের বাকি জাহাজগুলোও দ্রুত পৌঁছাবে বলে সরকার আশাবাদী। সরকারের এই সক্রিয় ব্যবস্থার ফলে আসন্ন মৌসুমে সারের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
