গুজরাট পুলিশের সাফল্য: নিখোঁজ মহারাষ্ট্রের নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর
মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারী নিজের বাড়ি থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে নিখোঁজ হওয়ার পর গুজরাট পুলিশের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরেছেন। আমরালি জেলার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এক নজরে
- মহারাষ্ট্র থেকে নিখোঁজ নারীকে কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে উদ্ধার করল গুজরাট পুলিশ।
- ২০২৫ সাল থেকে আমরালি পুলিশ মোট ৩১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০০ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়েছে।
- মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ওই নারী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে ধারণা।
ভারতজুড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চলমান প্রচেষ্টায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে গুজরাট পুলিশ। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের এক মানসিকভাবে অসুস্থ নারীকে তার শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন করিয়েছে আমরালি জেলা পুলিশ। ওই নারী তার বসতবাড়ি থেকে প্রায় কয়েকশ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
পুলিশি তথ্যানুযায়ী, উদ্ধারকৃত নারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন, যার ফলে তিনি পথ হারিয়ে এই বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করেন। স্থানীয় টহলদার দল তাকে শনাক্ত করার পর উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই ঘটনাটি আমরালি পুলিশের একটি বৃহত্তর মানবিক অভিযানের অংশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলা পুলিশ একটি নিবিড় অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করছে। এই মিশনে আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুলিশ এ পর্যন্ত ৩১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০০ জন শিশুকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ এই ৪১৪ জন ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ পরিবারের সাথে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ওই অঞ্চলে পুলিশি সেবার প্রতি জনমনে আস্থা বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে মানসিক প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের মানবিক সংবেদনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। গুজরাট রাজ্য পুলিশের এই সাফল্য অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত নারী তার পরিবারের হেফাজতে মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবার গুজরাট পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে যারা সীমানা পেরিয়ে এই সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
