জীবনযুদ্ধে হার না মানা আব্দুল্লাহ আল মামুন: সংগ্রামের এক অনন্য উপাখ্যান

অসুস্থ বাবার চিকিৎসার ব্যয় আর অভাবের সংসারে হাল ধরতে একসময় থমকে গিয়েছিল আব্দুল্লাহর পড়াশোনা। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় সব বাধা ডিঙিয়ে সে আজ এক প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবী এবং পরিবারের নির্ভরতা।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
05 Jul 2026, 19:00
Updated
05 Jul 2026, 19:00
Reading time
2 min
জীবনযুদ্ধে হার না মানা আব্দুল্লাহ আল মামুন: সংগ্রামের এক অনন্য উপাখ্যান
জাতীয় · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • পারিবারিক অনটনে পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম হলেও আব্দুল্লাহ হার মানেননি।
  • আলোর পাঠশালার শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি পুনরায় ক্লাসে ফিরে আসেন।
  • বর্তমানে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির মাধ্যমে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন তিনি।

প্রতিকূল বাস্তবতাকে জয় করার এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসকেন্দার ও আবেদা বেগমের একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহর যাত্রাপথ কোনোভাবেই সহজ ছিল না। শৈশবে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করলেও প্রতিকূলতায় তা মাঝপথে থেমে যায়। তবে ২০১৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা’য় ভর্তির মাধ্যমে তার দ্ধিতীয়বার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হয়।

শিক্ষাজীবনের মাঝামাঝি সময়ে আব্দুল্লাহর বাবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তার পুরো পরিবার এক চরম সংকটে নিপতিত হয়। বাবার চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে আব্দুল্লাহর মা একটি এনজিওতে স্বল্প বেতনের কাজ শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের সাথে কৃষিকাজ ও ঘরের কাজে হাত মিলিয়ে সংসারের জোয়াল টানতে শুরু করে কিশোর আব্দুল্লাহ।

আর্থিক অনটনের জেরে একসময় আব্দুল্লাহর পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে স্কুল শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন। তাদের ঐকান্তিক অনুরোধ ও সহযোগিতায় আব্দুল্লাহ পুনরায় ক্লাসে ফিরে আসে এবং ২০২১ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। শিক্ষকদের এই অনুপ্রেরণা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পাশাপাশি সে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেয়। বর্তমানে রাজশাহী শাখায় কর্মরত আব্দুল্লাহর অর্জিত আয় দিয়ে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিনের অভাব দূর হয়েছে। মা আবেদা বেগমের চোখে এখন সার্থকতা আর গর্বের অশ্রু। প্রথম আলো ট্রাস্ট ও আলোর পাঠশালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আব্দুল্লাহ জানায়, সঠিক সময়ে শিক্ষকদের সহায়তা না পেলে সে হয়তো আজ অন্ধকারেই হারিয়ে যেত।