কৃষ্ণা নদীর জল বণ্টন নিয়ে বিতর্ক: সরকারি নীতির তীব্র সমালোচনা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের
অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা ডেল্টা অঞ্চলে খারিফ মৌসুমে ধান চাষ না করার সরকারি পরামর্শের প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়াইএসআরসিপি। দলের নেতা এম.ভি.এস. নাগি রেড্ডি কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলেছেন।

এক নজরে
- খারিফ মৌসুমে ধান চাষে নিরুৎসাহিত করায় সরকারের সমালোচনা করেছে ওয়াইএসআরসিপি।
- নেতা নাগি রেড্ডি এই নীতিকে কৃষকদের জীবিকার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- জল ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নীতি পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষি রাজনীতিতে কৃষ্ণা নদীর জল বণ্টন এবং খারিফ মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণা ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকদের এই মৌসুমে ধান চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)।
ওয়াইএসআরসিপি নেতা এম.ভি.এস. নাগি রেড্ডি এক বিবৃতিতে সরকারের এই নীতিকে কৃষক-বিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ডেল্টা অঞ্চলে ধান চাষের ওপর হাজার হাজার কৃষক পরিবার নির্ভরশীল। সরকারের এই ধরনের পরামর্শ কৃষকদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নাগি রেড্ডি অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। পর্যাপ্ত জল সরবরাহ নিশ্চিত না করে কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ রাখতে বলা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তিনি দাবি করেন যে, সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে এবং স্থানীয় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, কৃষ্ণা নদীর জল সঠিক সময়ে মুক্তি দিলে ধান চাষে কোনো বড় সমস্যা হতো না। সরকারের অদূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে আজ কৃষকদের এই সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ওয়াইএসআরসিপি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদানের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জল স্বল্পতা এবং নদী অববাহিকার বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এই সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন দিনগুলোতে এই জল বণ্টন ইস্যুটি অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে।
