স্পেন ও মরক্কো সীমান্তে সাগরে ভাসমান বাধা স্থাপন; অভিবাসন ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ
উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সিউটাতে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে সমুদ্রে বিশেষ ভাসমান প্রতিবন্ধকতা বসিয়েছে স্পেন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের প্রবেশের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক নজরে
- সিউটা উপকূলে অভিবাসীদের প্রবেশ রুখতে সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর বসিয়েছে স্পেন।
- সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত।
- মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে প্রাণঘাতী ও অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছে।
উত্তর আফ্রিকার মরক্কো সংলগ্ন স্প্যানিশ ছিটমহল সিউটাতে নিরাপত্তা জোরদারে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মাদ্রিদ। সম্প্রতি সমুদ্রপথ ব্যবহার করে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের পর স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ সেখানে একটি দীর্ঘ ভাসমান বাধা বা 'ফ্লোটিং ব্যারিয়ার' স্থাপন করেছে।
এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো সাঁতরে বা ছোট নৌকায় করে মরক্কো থেকে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশকারীদের রুখে দেওয়া। গত কয়েক সপ্তাহে সিউটার উপকূলে শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করার পর সরকার এই জরুরি অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই বাধাটি মূলত একটি নেটওয়ার্কযুক্ত ফেন্সিং ব্যবস্থা যা পানির ওপর ভাসমান থাকবে। এটি সীমান্ত অতিক্রমের অত্যন্ত বিপজ্জনক পথগুলোকে সুরক্ষিত করবে এবং মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তাদের দাবি, এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। তারা সমুদ্রে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেবল সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে সিউটা সীমান্ত দীর্ঘকাল ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ইউরোপে প্রবেশের আশায় এই পথটি ব্যবহার করেন। স্প্যানিশ সরকার এই পরিস্থিতিকে একটি মানবিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভাসমান বাধাটি পূর্ণরূপে কার্যকর হওয়ার পর সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের সংখ্যা কমে আসবে বলে দাবি করছে প্রশাসন, যদিও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
