নারিকেলের ছোবড়ায় মিলল প্লাস্টিক খেকো ছত্রাক: হাওয়াইয়ের কিশোরীর অভাবনীয় আবিষ্কার
হাওয়াইয়ের এক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভেরা ওয়াং নারিকেলের ছোবড়ার মধ্যে এমন এক বিশেষ ধরনের ছত্রাকের সন্ধান পেয়েছেন যা ক্ষতিকারক প্লাস্টিক ও সানস্ক্রিন রাসায়নিককে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে ফেলতে সক্ষম।

এক নজরে
- নারিকেলের ছোবড়ায় পাওয়া ছত্রাক প্লাস্টিক ও সানস্ক্রিন কেমিক্যাল পচাতে সক্ষম।
- হাওয়াইয়ের শিক্ষার্থী ভেরা ওয়াং দীর্ঘ দুই বছরের গবেষণায় এই সাফল্য পান।
- এই উদ্ভাবন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ দূষণ রোধে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন হাওয়াইয়ের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভেরা ওয়াং। তার গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেলের ছোবড়ায় বসবাসকারী বিশেষ কিছু ছত্রাক সামুদ্রিক পরিবেশে জমা হওয়া প্লাস্টিক এবং সানস্ক্রিনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানগুলো দ্রুত পচিয়ে বা ভেঙে ফেলতে সক্ষম।
ভেরা ওয়াং তার এই গবেষণা শুরু করেছিলেন যখন তিনি হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সে সময় তিনি নারিকেল ভিত্তিক একটি সামুদ্রিক ফিল্টার তৈরি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দুই বছর পর তিনি এই অভাবনীয় জৈবিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পান যা প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেলের ছোবড়ার গায়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই ছত্রাকগুলো কৃত্রিম পলিমারকে তাদের শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। এর ফলে প্লাস্টিক কণাগুলো প্রাকৃতিকভাবেই অপসারিত হয়, যা পরিবেশের জন্য কোনো ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ রেখে যায় না।
ভেরা ওয়াংয়ের এই উদ্ভাবন বিশেষ করে দ্বীপরাষ্ট্র এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্লাস্টিক দূষণ এবং সানস্ক্রিন কেমিক্যালের কারণে প্রবাল প্রাচীর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার এই কাজ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও বড় পরিসরে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভেরা ওয়াং আশা করছেন, তার এই প্রাকৃতিক সমাধান ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পরিষ্কারের অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
